তিন ফুটের মধ্যেও শিশুর নিরাপত্তা নেই: রামিসার বাবা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১৬:১১
ছবি: সংগৃহীত
এক ফ্ল্যাটের এক দরজা থেকে আরেক দরজার দূরত্ব মাত্র তিন ফুট। এই তিন ফুটের মধ্যেও যদি একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে শুধু সরকারকে দায়ী করলে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
তিনি বলেন, পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে আরও হাজার হাজার রামিশা এমন নৃশংসতার শিকার হতে পারে।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল কর্তৃক বাংলাদেশ শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অশ্রুসজল চোখে আকুতি জানান আব্দুল হান্নান মোল্লা।
তিনি বলেন, সন্তান যদি সমাজের এমন নৃশংসতার শিকার হয়, তাহলে এর দায় শুধু পরিবারের নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রকেও এর জবাবদিহি করতে হবে।
হান্নান মোল্লা বলেন, আমি আমার বাচ্চাকে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। সেই শাস্তি যেন দ্রুত কার্যকর হতে দেখি। একজন বাবা হিসেবে এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।
তিনি বলেন, এত হতাশার মধ্যেও বিচার প্রক্রিয়ায় আমি একটি আশার আলো দেখতে পেয়েছি। সরকার দ্রুত বিচার শেষ করার যে আশ্বাস দিয়েছিল, তার প্রতিফলন আমি দেখতে পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আশা করি রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একজন বাবা হিসেবে আমি সর্বোচ্চ রায় প্রত্যাশা করছি।
এদিকে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই দিন নির্ধারণ করেন।
যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ আদালতে দাবি করেন, এ মামলায় কোনো ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি এবং আশপাশের কোনো সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি আসামিদের খালাস চান।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২ জুন এ মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পালাতে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সহায়তা করেছিলেন, সেই বিবরণও উঠে এসেছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন।’
অন্যদিকে স্বপ্নার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।’ আদালত উভয় আসামির বক্তব্য রেকর্ড করে রায়ের দিন চূড়ান্ত করেন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

