ছাত্রদল নেতাকে ছিনিয়ে নিতে থানায় হামলা, পুলিশের এসিসহ আহত ৭
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, ১৯:০২
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ব্যবসায়ীকে কোপানোর ঘটনায় জড়িত ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ হোসাইন ওরফে মিথুনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে তার সহযোগীরা। হামলার সময় পুলিশের গাড়ি থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে তারা। এসময় তাদের হামলায় পুলিশের নিউ মার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) তারিক লতিফসহ পাঁচ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) ভোর রাতে এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বশির ইসলাম (২৮), মোহাম্মদ হাসান (২১), মোহাম্মদ ইমন (২৫), মাসুম মাহমুদ (৩২), মোহাম্মদ আলামিন (৩০) এবং আকবর আলী। নিউ মার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছে নিউ মার্কেট থানা পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সামনে মাল্টিপ্ল্যান দোকান মালিক সমিতির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হককে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় ‘ইমন গ্রুপ’ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে নিউ মার্কেট থানায় মামলা করেন সমিতির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল হাসান।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এই ঘটনায় রিমান্ডে নেওয়া এক আসামি জানায় যে তাকে ঘটনাস্থলে যেতে নির্দেশ দিয়েছিল ছাত্রদল নেতা মিথুন। ইমন গ্রুপের মূল হোতা সানজিদুল হাসান ইমনের ধানমণ্ডি এলাকার চাঁদা তোলার কাজ করেন মিথুন। সেই মিথুনকে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে নিউ মার্কেট থানায় নিয়ে আসা হয়।
মিথুনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে, শুক্রবার ভোর ৪টায় মিথুনকে বহনকারী পুলিশের গাড়ি নিউ মার্কেট থানায় ঢুকতেই মিথুনের সমর্থকদের বাঁধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের সরে যেতে বললেও মিথুনের সমর্থকেরা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
হামলাকারীরা লাঠি, লোহার রড, চাপাতি নিয়ে আক্রমণ করে। এতে নিউ মার্কেট জোনের এসি তারিক লতিফ, উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আরব আলী, এসআই ফিরোজ আহমেদ, এসআই খন্দকার মেসবাহসহ চার থেকে পাঁচ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। তবে পুলিশের প্রতিরোধে দুর্বৃত্তদের অনেকেই দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘মিথুনকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছাড়িয়ে নিতে তার সমর্থকেরা চেষ্টা করেছিল, তবে পারেনি। এই ঘটনায় পৃথক একটি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে চালান করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’
এনএমএম/এমআই

