Logo

রাজধানী

ব্রেকিং

ম্যাটস শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, সাংবাদিকসহ আহত ১৮

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:০২

অ
ম্যাটস শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, সাংবাদিকসহ আহত ১৮

উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং অনতিবিলম্বে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শূন্য পদে নিয়োগ প্রদানসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় সচিবালয় অভিমুখে রওনা হন তারা। এ সময় তারা মাউশি মোড়ে পৌঁছলেই তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে এ পর্যন্ত সাংবাদিকসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। তিনি জানান, সচিবালয়ের সামনে থেকে আহত অবস্থায় ১৮ জনকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।

আহতরা শিক্ষার্থীরা হলেন– নওগাঁ ম্যাটসের মেহরাব (২০) প্রাইম ম্যাটসের এরশাদুল হক (৩০), শ্যামলী ম্যাটসের জাহিদুল হাসান (২৬), সোহাগ (২২), আমানুল্লাহ (২০), ট্রমা ম্যাটসের সায়মা (২১), সুমাইয়া খাতুন (২০), তাহমিনা আক্তার তমা (২০), বরিশাল জমজম ম্যাটসের মোহাম্মদ রাসেল (২৩), গাজীপুর ম্যাটসের শিহাব (২০), কুষ্টিয়া ম্যাটসের আরাফাত (২১), জাহিদ হাসান (২১), টাঙ্গাইল সোহরাব উদ্দিন ম্যাটসের নাঈম (২৫), বাগেরহাট ম্যাটসের সায়েম (২০) ও ব্রেকিং নিউজের স্টাফ রিপোর্টার আনোয়ারুল ইসলাম শিমুল (২৮)।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিলাম। পুলিশ কেন আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ল আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। 

এর আগে এদিন সকালে ফার্মগেট এলাকায় জড়ো হয়ে বেলা ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা।

সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আহমাদুল্লাহ মানসুর বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জুলাই বিপ্লব সংগঠিত হলেও ম্যাটস শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান হয়নি। সব বৈষম্য অবসানের লক্ষ্যে গত ২২ জানুয়ারি চার দফা দাবিতে আমরা ঢাকার শাহবাগে গণজমায়েত করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দাবি পূরণের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ৭ দিন পার হলেও তার দৃশ্যমান কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, যেহেতু মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো এ ব্যাপারে আন্তরিকতার সঙ্গে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সেহেতু আমরা এ কর্মসূচি নিয়েছি। আজকের এই মুভমেন্টের সব দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদকে নিতে হবে।  

জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে ১৬টি সরকারি ম্যাটস ও প্রায় ২০০টি বেসরকারি ম্যাটস ডিপ্লোমা মেডিকেল ডিগ্রি (ডিএমএ) কোর্স পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২২ এবং বিএমডিসির সর্বশেষ তথ্যমতে বাংলাদেশে বর্তমানে ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার এবং বিএমডিসি নিবন্ধিত ডিএমএফ’র সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন ডিপ্লোমা চিকিৎসক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন।

ম্যাটস শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমানে ডিপ্লোমা মেডিকেল কোর্স সম্পূর্ণ করে প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ জনবল কর্মসংস্থানহীন বেকার হয়ে পড়েছেন। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে, নিয়োগবিধি সংশোধনের নামে তালবাহানা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে শূন্য পদ রয়েছে ২৫০০টি। এতে করে একদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ম্যাটস থেকে পাশকৃত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

চার দফা দাবিগুলো হলো, বৈষম্যমুক্ত বাংলায় বাংলাদেশ সরকারের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ১৯৭৩-১৯৭৮ মোতাবেক উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে হবে, অনতিবিলম্বে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শূন্য পদে নিয়োগ প্রধানসহ কমিউনিটি ক্লিনিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে ম্যাটস সংস্কৃত ডিএমএফ ডিপ্লোমাধারীদের জন্য নতুন পদ সৃজন করতে হবে, অনতিবিলম্বে চার বছরের অ্যাকাডেমিক কোর্স বহাল রেখে পূর্বের মতো এক বছরের ভাতাসহ ইন্টার্নশিপ চালু করে অসংগতিপূর্ণ কোর্স কারিকুলাম সংশোধন করতে হবে এবং প্রস্তাবিত অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল শিক্ষা বোর্ড বাতিল করে ‘মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ’ নামে নতুন বোর্ড গঠন করতে হবে।

এনএমএম/বিএইচ/এনজে 

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন