ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পাওয়া ‘হাড়গোড়’ ল্যাব টেস্টে পাঠাচ্ছে সিআইডি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩:১৮
ফাইল ফটো
রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি থেকে ‘কিছু হাড়গোড়’ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এগুলো মানুষের নাকি অন্য কোনো প্রাণীর তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর একটার দিকে ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহমেদ মাসুদ বাংলাদেশের খবরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাড়গোড়গুলো মানুষের নাকি অন্য কোনো প্রাণীর তা পরীক্ষা করতে সিআইডি ক্রাইম সিনকে ডাকা হয়। তারা আলামত সংগ্রহ করেছে। এগুলো কীসের হাড়গোড় তা এখন ল্যাবে পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখবে।
সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। এ বিষয়ে আর কিছু এই মুহূর্তে বলা যাবে না।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে ধানমন্ডি থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বাড়িটি থেকে ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে।
গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাড়িটিতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। এ সময় শাবল, হাতুড়ি ও রড দিয়ে বাড়ির দেয়ালসহ বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়। ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাত পৌনে ১১টার দিকে সেখানে বড় একটি ক্রেন আনা হয়। ক্রেন দিয়ে পিলার ভাঙা সম্ভব না হওয়ায় পরে বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এরপর বাড়িটির আরেকটি নির্মাণাধীন ভবনকে ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ভবনটির বেজমেন্টে পানি জমা ছিল। সেখানে ‘আয়নাঘর’ রয়েছে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্ট করেন। এরপর সেই পানি সরানোর উদ্যোগ নেয় ফায়ার সার্ভিস।
গতকাল রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদপুর স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ করে। দুপুর দেড়টার দিকে পানি নিষ্কাশনের কাজ শেষ হয়। ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ওই ভবনের বেজমেন্টে পানি অপসারণ করে ‘আয়নাঘর’ বা তেমন কিছুর অস্তিত্ব পায়নি ফায়ার সার্ভিস। এরপর আজ সোমবার সেখানে আলামত সংগ্রহে যায় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট।

