‘হর্ন নিয়ে কথা কাটাকাটি’, উত্তরায় দম্পতিকে কোপাল কিশোর গ্যাং
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:২০
আটক দুই কিশোর গ্যাং সদস্য।
রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে প্রকাশ্যে রাস্তায় স্বামী-স্ত্রীকে দা দিয়ে কুপিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ঘটনার পর পরেই দম্পতিকে কোপানো দুই জনকে আটক করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মোবারক হোসেন (২৫) ও রবি রায় (২২)। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরপরই ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাদের কোপানো হয়েছে তারা স্বামী-স্ত্রী। আর যারা কুপিয়েছেন তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। মূলত কিশোর গ্যাংয়ের ওই গ্রুপটির সদস্যরা উত্তরা সেক্টরের ভেতরে উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজিয়ে দ্রুত গতিতে চালাচ্ছিল। এ সময় একটি শিশুকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তাদের একটি মোটরসাইকেল। এ সময় পাশ দিয়েই যাওয়া ভুক্তভোগী ওই দম্পতি এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা রামদা দিয়ে ওই দম্পতিকে কোপাতে থাকে।
এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই দম্পতিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ঘটনায় জড়িত দুজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে জানান, তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একজনের নাম মোবারক হোসেন (২৫) ও রবি রায় (২২)। মোবারক শেরপুরের শ্রীবরদী থানা এলাকার বাসিন্দা। টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় ভাড়া থাকত সে। আর রবি রায়ের বাড়ি টঙ্গী পশ্চিম থানার হাজীর মাজার এলাকায়।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষিপ্ত হয়ে দুই যুবক ওই দম্পতিকে রামদা দিয়ে আঘাত করছে। এ সময় জীবন বাঁচাতে ওই নারীকে হাত জোড় করে সন্ত্রাসীদের কাছে মাফ চাইতে দেখা গেছে। ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন উত্তরার বাসিন্দারা। আরও দেখা যায়, সাদা ও জলপাই রংয়ের শার্ট পরিহিত দুই যুবক একজন ভুক্তভোগী পুরুষ ও তার সঙ্গে থাকা এক নারী পথচারীকে রামদা দিয়ে কোপাচ্ছে।
তবে ভিডিওতে দেখা গেলেও পরে কিশোর গ্যাংয়ের ওই দুই সদস্যকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় জনতা। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন।
- এনএমএম/এমজে

