শীতকালে গরম পানির জন্য গিজার বা ওয়াটার হিটার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে যায়। তবে বাসা বাড়ীতে কিংবা অফিসে গিজার ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা অনেক সময় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে গিজার ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। যেভাবে গিজার ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ এর খরচ কম হবে এমন ৭ কার্যকারি উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক এখান থেকেঃ--
১। সঠিক গিজার নির্বাচন
গিজার কেনার সময় পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী সঠিক ক্ষমতার গিজার নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। ছোট পরিবারের জন্য ১০ থেকে ১৫ লিটারের গিজারই যথেষ্ট। বড় ক্ষমতার গিজার বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে, তাই প্রয়োজনের চেয়ে বড় গিজার না কেনাই ভালো। এছাড়া বেশি স্টার রেটিং যুক্ত ও এনার্জি এফিশিয়েন্ট গিজার কিনলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং বিদ্যুৎ বিলও কম আসবে। তবে ছোট আকারের গিজারের দাম কিছুটা কম হলেও বিদ্যুৎ বিলের মধ্যে বেশি পার্থক্য থাকে না। ফলে ভালো ব্র্যান্ডের গিজার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাপের ক্রয় করা ভালো।
২। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
গিজারের থার্মোস্ট্যাট সেটিং সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই স্নানের জন্য যথেষ্ট। অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রায় পানি গরম করলে বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেড়ে যায়। প্রতিদিন ব্যবহারের পর গিজার বন্ধ রাখা এবং ব্যবহারের ১৫-২০ মিনিট আগে চালু করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় রোধ হয়।
৩। নিয়ম মেনে ব্যবহার
সকালে সবাই একসাথে স্নান করলে বারবার পানি গরম করার প্রয়োজন হয় না, ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। একবার পানি গরম করে পরপর সবাই ব্যবহার করলে গিজার বারবার চালু-বন্ধ করতে হয় না। গ্রীষ্মকালে গিজার একেবারেই বন্ধ রাখা উচিত, কারণ সাধারণ পানিই স্নানের জন্য যথেষ্ট থাকে। শুধুমাত্র শীতকালে প্রয়োজন অনুযায়ী গিজার ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
৪। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ
গিজারে ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ জমে হিটিং এলিমেন্টের কার্যক্ষমতা কমে যায়, ফলে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। প্রতি তিন থেকে ছয় মাস অন্তর গিজার পরিষ্কার করা এবং সার্ভিসিং করা জরুরি। গিজারের ম্যাগনেসিয়াম রড নিয়মিত পরীক্ষা করে প্রয়োজনে পরিবর্তন করলে গিজারের আয়ু বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে। পাইপ সংযোগে কোনো লিকেজ থাকলে তা দ্রুত মেরামত করা উচিত।
৫। ইনসুলেশন উন্নতকরণ
গিজারের ট্যাংক এবং পাইপলাইনে ভালো ইনসুলেশন থাকলে তাপ কম নষ্ট হয় এবং পানি দীর্ঘসময় গরম থাকে। পুরাতন গিজারে অতিরিক্ত ইনসুলেশন ম্যাট যুক্ত করা যায়। গরম পানির পাইপে ফোম ইনসুলেশন লাগালে পাইপের মধ্য দিয়ে তাপ কম বের হয়। গিজার এমন জায়গায় স্থাপন করা উচিত যেখানে পরিবেশের তাপমাত্রা খুব বেশি ঠান্ডা নয়।
৬। স্মার্ট টাইমার ব্যবহার
বাজারে বিভিন্ন ধরনের স্মার্ট টাইমার পাওয়া যায় যা নির্দিষ্ট সময়ে গিজার চালু-বন্ধ করতে পারে। স্নানের নির্দিষ্ট সময়ের আগে গিজার চালু হওয়ার জন্য টাইমার সেট করলে সারাদিন গিজার চালু রাখার প্রয়োজন হয় না। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
৭। বিদ্যুতের বিকল্প
সম্ভব হলে সোলার ওয়াটার হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাথমিক খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বিদ্যুৎ বিল শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসে। হাইব্রিড সিস্টেম ব্যবহার করলে সূর্যালোক না থাকলে ইলেকট্রিক ব্যাকআপ পাওয়া যায়।
মতামত
গিজার ব্যবহারে সচেতনতা এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে বিদ্যুৎ খরচ ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে গিজারের বিদ্যুৎ বিল কমা আসার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে। শক্তি সাশ্রয় করলে শুধু খরচ কমবে না, বরং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই পরিবেশ তৈরিতেও সাহয্য করবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
এমডিএ/টিএইচএম

