Logo

সারাদেশ

স্কুলের বই, টিনসহ মালামাল বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

Icon

পাবনার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৫, ১৫:৪০

অ
স্কুলের বই, টিনসহ মালামাল বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

পাবনা সুজানগর উপজেলার ৪৭ নম্বর হাটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সয়েদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়টির পুরাতন ভবনের টিন, জানালা, লোহার রড, দরজা ও শিক্ষার্থীদের কয়েক বস্তা বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয়রা জানান (১ মার্চ) শনিবার বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সায়েদুল ইসলাম বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অফিস সহকারী জাহিদের মাধ্যমে এসব কিছু বিক্রয় করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কয়েক ভ্যান মালামাল ও বই বিনা অনুমতিতে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গোপনে বিক্রি করছে। স্থানীয়রা জানতে চাইলে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করা কিছু কাগজ দেখান এবং বলেন সরকারি নিয়মানুযায়ী এসব বিক্রয় হচ্ছে জানান প্রধান শিক্ষক।

বাবু নামের এক ভ্যানচালক এ বিষয়ে বলেন, আমরা অশিক্ষিত লোক, এতো কিছু বুঝি না। আমাদের ভাড়ায় এনেছে। কয়দিন নিয়েছে জানতে চাইলে তিন দিনে ছয় ভ্যান নিয়েছেন বলে জানান তিনি। 

অন্যদিকে পুরাতন মাল ব্যবসায়ী গ্রামের আমিন মোল্লা (৬০) বলেন, আমি পুরাতন মাল ক্রয় করি। আমরা গরিব মানুষ, অশিক্ষিত লোক, আমাদের তো কোনটা বৈধ কোনটা অবৈধ সেটা ধরার মতো ক্ষমতা নেই। 

এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরিফুজ্জামান মিয়া টুটুল ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ইতোপূর্বে সরকারের দেওয়া স্লিপের এবং সরকারের দেওয়া অনুদানের সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। আমরা জেনে সতর্ক করেছি। কিন্তু এবার আবার সরকারি মাল কীভাবে বিক্রি করছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা ও বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক,  বলেন ইতোপূর্বে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল।

প্রধান শিক্ষক সায়েদুল ইসলাম এসব বিষয়ে মুঠোফোনে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মজিদকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনিও মুঠোফোনে বলেন, আমরা আজকের নেওয়া টিন ও কয়েক বস্তা বই উদ্ধার করেছি। আজ ছুটির দিন। আগামীকাল তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ এ বিষয়ে বলেন, আমি ঘটনাটি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে, শিক্ষা অফিসারকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

এমএইচএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন