নওগাঁয় রমজানে পণ্যের দাম স্থিতিশীল, সংকট কাটেনি সয়াবিন তেলের
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৫, ১৬:৪৯
রমজান মাস শুরু হয়েছে। রোববার (২ মার্চ) সকালে নওগাঁ সদর পৌর বাজারে বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা। এ বছর রমজান ঘিরে ভোগ্যপণ্যের দাম এখনো অনেকটাই স্থিতিশীল। তবে সংকট রয়েছে ভোজ্য তেলের।
রোববার নওগাঁ পৌর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান উপলক্ষ্যে প্রতিটি নিত্য পণ্যের দোকানের সামনে রয়েছে ব্যাপক ভিড়। ক্রেতারা দরদাম করে পণ্য কিনছেন। একই রকমভাবে মুরগি মাংসের দোকানের সামনেও দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়।
দোকানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া খোলা চিনির কেজি ১২০ টাকা, খোলা সয়াবিন এক লিটার ১৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, আদা ১০০ টাকা, আলু ১৮-২০, টাকা মুড়ি ৮৫-৯০ টাকা এবং বিভিন্ন খেজুর ২১০ থেকে এক হাজারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে এখনো বোতলজাত সয়াবিন তেলে পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো খুবই কম তেল দিচ্ছে। বলা যায়, সরবরাহ নাই। কী কারণে দিচ্ছে না একমাত্র কোম্পানিগুলোই বলতে পারবে। যা পাওয়া যাচ্ছে তাও আবার বাড়তি দামে। তবে খোলা সোয়াবিন পাওয়া গেলেও তা ১৮০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামে এসব পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে সাদা ডিম ৩৬ টাকা ও লাল ডিম ৪০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের বাজার হালিতে ২ হতে ৪ টাকা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এর আগে ১৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল। সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, যা ছিল ২৭০ টাকা। গরুর মাংস ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর আমদানি কম থাকায় কেজিতে ৫০ টাকা মাংসের দাম বেড়েছে বলে মাংস বিক্রেতা জানান। বাজারে বড় ইলিশ ১৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই, কাতলা, সিলভারকাপ, পাঙ্গাস মাছ কেজিতে ২০-৫০ টাকা কমেছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
এদিকে সবজির বাজারে চোখ লাল করে আছে লেবু। সপ্তাহ খানেক আগে লেবু রকম ভেদে ১৫- ৪০ টাকা হালি বিক্রি হলেন আজকের বাজারে ৭০-৮০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য শাক সবজির মধ্যে প্রতি কেজি দেশি গাজর ২০-২৫টাকা, শিম ২৫-৩০ টাকা, বেগুন কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫০- ৬০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা যা কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি। করল্লা ১০০ টাকা, পটল ১৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা ফালি, কাঁচা মরিচ ৪০-৫০ টাকা যা অপরিবর্তিত রয়েছে।
ক্রেতারা জানিয়েছেন, অন্যান্যবার রোজার শুরুর সময়ের চেয়ে এবার একটু স্বস্তি রয়েছে বাজারে। বিষয়টির সঙ্গে বিক্রেতারাও একমত হয়েছেন। তারা বলছেন হুট করেই এবার কোনো কিছুর দাম বাড়েনি।
ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম গত সপ্তাহের মতোই অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো কোনো জিনিসে ৫/১০ টাকা বাড়তি মনে হচ্ছে। তবে সেটার পরিমাণে একেবারেই কম। কিন্তু বাজারে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা বলেন, হাতেগোনা দু-একটা সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অস্বাভাবিক যে বাড়া, সেটি নয়। অনেক সবজির মৌসুম শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে ঐসব সবজির দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী
এম এ রাজ্জাক/এমএইচএস

