চড়া সুদের ‘চাপেই’ আত্মহত্যা করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মহরম
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৫, ১৪:০৮
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মহরম আলী (৫৫) ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের চড়া সুদের বোঝা এবং ঋণের চাপে দিশাহারা হয়ে তিনি এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মহরম আলী উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের চানগাঁও গ্রামের মৃত সোনা উল্যার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পীরের বাজারে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজা মিয়া জানান, মহরম আলীর ব্যবসা ভালো চললেও কিছুদিন ধরে তিনি ঋণের চাপে পড়ে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের বোঝা সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
নিহতের বড় ভাইয়ের স্ত্রী মালা বেগম জানান, মহরম আলীর ওপর ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণের চাপ ছিল। ঘটনার দিন স্থানীয় কিছু দাদন ব্যবসায়ী ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দিতে না পারায় তারা অপমানজনক আচরণ করেন। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে মহরম আলী আত্মহননের পথ বেছে নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দাদন ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা স্বল্প আয়ের মানুষদের উচ্চ হারে সুদে ঋণ দিয়ে কৌশলে তাদের সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই এই ঋণের চাপে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, কেউ কেউ বাড়িঘর বিক্রি করছেন, আবার কেউ মহরম আলীর মতো আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহল এসব দাদন ব্যবসায়ীদের মদত দিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন না।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার এসআই দীপক সরকার জানান, পরিবারের দাবি অনুযায়ী মহরম আলী ঋণের চাপে ছিলেন। তার লাশের পাশ থেকে একটি কীটনাশকের বোতল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৪ মার্চ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেটগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন মহরম আলী। তার শরীর ট্রেনে কাটা পড়ে কয়েক টুকরা হয়ে যায়।
- এমজে

