Logo

সারাদেশ

বিএলডিপি নেতাকে হুমকির অভিযোগ

সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে এসপিকে চিঠি

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৫, ১৭:৩৯

অ
সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে এসপিকে চিঠি

সিকদার লিটন ও শরিফুল সরদার

নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল সরদার।

শনিবার (৮ মার্চ) ফরিদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগটি জমা দেন তিনি। অভিযোগে শরিফুল সরদার দাবি করেন, তার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন ও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তিনি আইনি সহায়তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

শরিফুল সরদার বলেন, ‘‘আমি ফেসবুকে একটি তথ্য শেয়ার করি, যেখানে উল্লেখ ছিল, সিকদার লিটন ও তৃপ্তি খানম ঢাকার একটি হোটেলে অবস্থান করেছেন। পরে মেসেঞ্জারে আমাকে ফোন করে লিটন জানতে চান, আমি কেন বিষয়টি শেয়ার করেছি। আমি বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আমাকে হুমকি দেন এবং বলেন, ‘তুই সাবধান হয়ে যা, আমি তোকে দেখে নেব। তুই এমন মার খাবি যে তোর হাঁটাচলার শক্তি হারাবি।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।’’

অভিযোগকারীর দাবি, ফোনে দেওয়া এই হুমকির কারণে তিনি আতঙ্কে আছেন এবং বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

প্রতারণা ও মামলা বাণিজ্যের হোতা হিসেবে অভিযুক্ত এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার আসামি সিকদার লিটনকে গত ৫ মার্চ ফরিদপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে আলফাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিস্ফোরক ও নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৬ মার্চ তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, ঢাকায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং সম্প্রতি তার মোবাইল আর্থিক সেবার (বিকাশ) মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে সিকদার লিটন বা তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিকদার লিটন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর আজমপুর গ্রামের সিদ্দিক সিকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সদস্য। তৃপ্তি খানমের বাড়িও আলফাডাঙ্গাতে।

আলফাডাঙ্গার এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছর শাসনামলে নিজেকে দলটির দাবি করা লিটন এখন বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ডজনখানেক জালিয়াতিক মামলার আসামি লিটন গ্রেপ্তার এড়াতে নিয়েছিলেন নানা কৌশল। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন