Logo

সারাদেশ

হাওরে মাছ লুটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ : আহত অর্ধশত, আটক ৫০

Icon

হাওরাঞ্চল (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৫, ১৯:৪২

অ
হাওরে মাছ লুটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ : আহত অর্ধশত, আটক ৫০

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে ইজারাকৃত জলমহালের মাছ লুটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। শনিবার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলার রসূলপুর ফেরিঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার খালিয়াজুরী ও মদন উপজেলার বিভিন্ন ইজারাকৃত জলমহালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। এতে জলমহালের ইজারাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। গত এক সপ্তাহে মদনের নূরেশ্বর বিল, খালিয়াজুরীর কির্তনকলা বিল, কারি বিল, উচাবাইদা বিল ও হাইলা বিলের মাছ লুট হয়েছে। এসব বিলের ইজারা মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

শনিবার সকালে ইজারাকৃত কাঠালজান ও মরাগাঙ্গের মাছ লুট করতে হাজারো মাছ শিকারী ধনু নদীর পাড়ে জড়ো হয়। এ সময় তারা রসূলপুর ফেরিঘাটের পাশে শতাধিক পিকআপ, অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও হ্যান্ডট্রলি রেখে নদী পার হতে চাইলে ফেরিঘাটের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।  

কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে মাছ শিকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মাছ শিকারীদের শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ শিকারীরা ফেরিঘাট দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় তাদের গালমন্দ করে। প্রতিবাদ করায় তারা স্থানীয়দের মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে রসূলপুর ফেরিঘাটের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বসতবাড়িতে হামলা চালায়।

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নয়ন ঘোষ জানান, সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫-২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

খালিয়াজুরী থানার ডিউটি অফিসার এসআই তোফাজ্জল হোসেন জানান, খালিয়াজুরী হাসপাতালে ১৫-২০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাড়ি ভাঙচুর ও আহতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত জানতে সময় লাগবে।’

নিজাম তালুকদার/এটিআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন