Logo

সারাদেশ

মাদকে সয়লাব বাউফল, খোলামেলা বেচাকেনা

Icon

আরিফুল ইসলাম সাগর

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:২৬

অ
মাদকে সয়লাব বাউফল, খোলামেলা বেচাকেনা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের আগ্রাসন। গাঁজা ও ইয়াবার সহজলভ্যতায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত গড়ে উঠেছে ‘মাদকের হাট’। একাধিক এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রি চলছে একেবারে প্রকাশ্যে।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাউফল পৌর শহরের পাবলিক মাঠ, বাংলা বাজার, নতুন বাজার, বয়রা পট্টি, সরকারি কলেজ, মুক্তিযোদ্ধা অডিটোরিয়াম, কাগুজিরপুল, গার্লস স্কুল রোড, ফুলতলা, কালিবাড়ি, ব্যাটারি গলি এবং নবারুণ ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে চলে মাদকের ব্যবসা।

এ ছাড়া ধুলিয়া, মঠবাড়িয়া, জামাল কাঠি, চাঁদকাঠি, নাজিরপুর, কালাইয়া, কনকদিয়া, মদনপুরা, নওমালা, বগা ও কেশবপুরসহ প্রতিটি ইউনিয়নে রয়েছে একাধিক মাদক হটস্পট।

মাদক ব্যবসার জন্য গড়ে উঠেছে সুসংগঠিত রুট। বিশেষ করে ঢাকা-কালাইয়া নৌপথে গাঁজা আসে সদরঘাট, ফতুল্লা ও চাঁদপুর থেকে। এসব চালান গভীর রাতে ধুলিয়া, নিমদী ও কালাইয়া লঞ্চঘাটে পৌঁছায়। সড়কপথে আসে বরিশাল, দুমকি ও লোহালিয়া হয়ে।

চালান পৌঁছানোর পর তা ভাগ হয়ে যায় কারবারি ও খুচরা বিক্রেতাদের হাতে। হোম ডেলিভারি, মোবাইল কল এবং ‘হাতে হাতে’ পদ্ধতিতে চলছে বিক্রি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবনকারী জানান, ২৫ গ্রাম গাঁজা বিক্রি হয় ১ হাজার টাকায়, একটি ইয়াবা বিক্রি হয় ৩০০-৩৫০ টাকায়। উঠতি বয়সি তরুণরাই প্রধান ক্রেতা হলেও নারীদের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ বা প্রশাসন যখনই অভিযানে যায়, তার আগেই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে খবর পৌঁছে যায়। ফলে তারা সরে পড়ে বা মজুদ গোপন করে রাখে। যে কারণে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূল হোতারা।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বহু মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। আমাদের কাছে তথ্য এলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেই।

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তবে সমাজের সচেতন মানুষদের সাহস করে তথ্য দিতে হবে। পরিচয় গোপন রাখা হবে।

সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের একাংশ এবং রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এত বড় মাদক চেইন চলতে পারে না। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়— দরকার সামাজিক আন্দোলন এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা।

  • এটিআর
Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন