Logo

সারাদেশ

৭০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ, কম খরচে বেশি লাভের আশা

Icon

এস মেজবাহউদ্দিন, লালমোহন

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৫, ১৩:০০

অ
৭০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ, কম খরচে বেশি লাভের আশা

ভোলার লালমোহন উপজেলায় এবছর ৭০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া কৃষকদের অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ভুট্টার আবাদ। বর্তমানে বিস্তীর্ণ মাঠে ভুট্টার সোনালী ক্ষেত নজরকাড়া দৃশ্য সৃষ্টি করেছে। 

কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে জমিতে ভালো ফলন দেখে। প্রতি বছরই নতুন চাষিরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কারণ এই চাষে খরচ কম, অথচ ফলন ও দাম বেশি পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর লালমোহন উপজেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৫০০ হেক্টরের মতো। উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভুট্টার আবাদ হয়েছে। 

এখানে চাষিরা কহিনূর, হাইব্রিড ডন-১১১, লাকি-৭, হাইব্রিড উত্তরণসহ আরও উন্নত জাতের ভুট্টা চাষ করছেন। বীজ রোপণের ১৪৫ দিনের মধ্যে ফলন সংগ্রহ শুরু করতে পারবেন চাষিরা। আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে এই উপজেলার চাষিরা তাদের ক্ষেত থেকে ভুট্টা সংগ্রহ শেষ করবেন।

প্রতি মণ ভুট্টা বর্তমানে পাইকারি বাজারে ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝগ্রাম এলাকার চাষি মো. কামাল হোসেন জানান, তিনি ৩৩ শতাংশ জমিতে কৃষি অফিসের প্রদর্শনীর আওতায় ভুট্টা চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার ও বীজ পেয়েছেন এবং আশানুরূপ ফলন হয়েছে। 

তিনি বলেন, এই চাষে খরচ প্রায় ১৫ হাজার টাকা হয়েছে। আশা করছি, ফলন সংগ্রহের পর অন্তত ৩৫ হাজার টাকার ভুট্টা বিক্রি করতে পারব।

একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার চাষি মো. মনজু জানান, তিনি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ভুট্টা চাষ করছেন। এ বছর ৩০০ শতাংশ জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘এ বছর জমি লিজ, বীজ-সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বাবদ প্রায় ১ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। তবে আশা করছি আড়াই লাখ টাকার ভুট্টা বিক্রি করতে পারব।’

লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভুট্টা চাষিদের বিনামূল্যে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই বছর ভুট্টার ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে চাষিদের সহযোগিতা করছেন, তাই আশা করছি তারা আশানুরূপ লাভবান হবেন।’

এমজে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন