Logo

সারাদেশ

সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

কক্সবাজার উপকূলের জেলেদের মানবেতর জীবন

Icon

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৫, ১৬:৩৮

অ
কক্সবাজার উপকূলের জেলেদের মানবেতর জীবন

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় চরম বিপাকে পড়েছেন কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে পরিবার। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পেশা বদলের চিন্তাও করছেন।

মৎস্য সম্পদ অধিদপ্তর ২০ মে থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ সময়টিতে সাগরে মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির স্বার্থে সবধরনের জেলেদের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার মাদারবনিয়া এলাকার জেলে আশরাফ আলী মিয়াজী বলেন, ‘৫৮ দিন কাজ না থাকলে জাল, নৌকা বিক্রি করে অন্য পেশা খুঁজতে হবে। তা না হলে সরকারি প্রণোদনা বাড়ি বাড়ি পৌঁছাতে হবে, নয়তো না খেয়ে মরতে হবে।’

নৌকার শ্রমিক অলি উল্লাহ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ছিল ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা, এখন আবার ৫৮ দিন। এভাবে নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকলে জেলেদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে।’

উপকূলীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সরকার দেশ ও সমুদ্রসম্পদের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এটা মেনে নিতে হবে। তবে চাল যেন প্রকৃত জেলেদের ঘরে ঘরে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে লুটপাট হবে।’

স্থানীয় জেলেরা জানান, কক্সবাজারের সোনারপাড়া থেকে মনখালী পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার উপকূলে ১০ হাজারের বেশি জেলে রয়েছে। মাছ ধরা নৌকার সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি, যেখানে কাজ করেন হাজার হাজার শ্রমিক। মাছ না পেলে এসব শ্রমিকের খাবারও জোটে না।

কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া এলাকার জেলে কবির হোসেন বলেন, ‘বাচ্চারা ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদে। সাহায্য না পেলে আমরা বাধ্য হয়ে সাগরে নামব, আইন না মেনে হলেও। পরিবারকে তো বাঁচাতে হবে।’

টেকনাফ এলাকার জেলেরা জানান, কাজ বন্ধ থাকায় এখন কোনো উপার্জন নেই। ঘরে খাবার নেই। সন্তানদের ক্ষুধা মেটাতে না পেরে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেকেই। অনেক এলাকায় দিনমজুরির কাজও মিলছে না। জেলেদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা যেন ‘মৃত্যুর পরোয়ানা’ হয়ে এসেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘নিবন্ধিত জেলেদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলে এই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন।’

এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন