দেশজুড়ে বিআরটিএ অফিসে দুদকের অভিযান
মিলল ঘুষ-দালালি ও নথিপত্রে অনিয়মের প্রমাণ
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৫, ১৯:০৪
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বিআরটিএ’র বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ ও যানবাহনের কাগজপত্র ইস্যুতে ঘুষ, দালালচক্রের সক্রিয়তা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (৭ মে) কক্সবাজার, মেহেরপুর, শেরপুর ও গাজীপুরে পরিচালিত এসব অভিযানে বিভিন্ন কার্যালয়ে অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। বাংলাদেশের খবর’র জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তিারিত।
কক্সবাজার : সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দালালদের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নথিপত্রে জালিয়াতির অভিযোগে কক্সবাজার বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের ট্রান্সফোর্স দল। বেলা ১১টায় সহকারী পরিচালক সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে দলটি কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ অফিসে গিয়ে সেবা গ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ যাচাই করে।
ঝিলংজা ইউনিয়নের বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও তাঁর ফাইলে অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদ সংযুক্ত করা হয়েছে—যা তিনি দেননি। ঈদগাঁওয়ের শহিদ নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি ১৬ হাজার টাকা দিয়ে একজন দালালের মাধ্যমে লাইসেন্স করতে দিলেও এখনো পাননি, অথচ সরকারি ফি মাত্র ২৭০০ টাকা।
বিআরটিএর সহকারী পরিচালক উথোয়াইনো চৌধুরী বলেন, দুদকের অভিযানকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার চান।
মেহেরপুর : মেহেরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস সার্টিফিকেটে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অভিযান চালায় দুদকের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের একটি দল। দুদকের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে দুপুরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে ছদ্মবেশে কার্যালয়ে ঢুকে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
অভিযান শেষে তিনি জানান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার সময় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে পরীক্ষার খাতায় পাস-ফেল নিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
শেরপুর : বিআরটিএ শেরপুর সার্কেল অফিসে দালালদের মাধ্যমে লাইসেন্স ও ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুদক জামালপুর কার্যালয়ের একটি দল। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে চার সদস্যের দল দুপুরে এ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে লাইসেন্স ও ফিটনেস প্রদান প্রক্রিয়ায় অসাধুতা, দালালের সক্রিয়তা এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পান দুদক কর্মকর্তারা।
গাজীপুর : গ্রাহক হয়রানি, ঘুষ লেনদেন ও দালালদের দৌরাত্মের অভিযোগে গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল। সকালে দুদকের উপপরিচালক সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে টিমটি রাজবাড়ি এলাকার বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালায়।
প্রথমে ছদ্মবেশে গ্রাহক সেজে আবেদনকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং পেন্ডিং তালিকা ও রেজিস্টার পর্যালোচনা করা হয়। অভিযান শেষে সেলিম মিয়া জানান, মালিকানা পরিবর্তন, লাইসেন্স পেতে ঘুষ এবং দালালচক্রের সক্রিয়তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
এই চার জেলার বিআরটিএ অফিসে অভিযানকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। দুদক জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআরএস

