মাদকবিরোধী পোস্ট দেওয়ায় কলেজছাত্রীর ঘরে আগুন, আতঙ্কে পরিবার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৫, ১৭:৫০
ছবি : বাংলাদেশের খবর
সুনামগঞ্জ শহরতলির ওয়েজখালীর বিপরীতে লক্ষণশ্রী গুচ্ছগ্রামের এক কলেজছাত্রীর ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্ট দেওয়ার জেরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এতে ঘরের একাংশ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে পরিবারটি।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল সোমবার রাত তিনটার দিকে। মঙ্গলবার (১৩মে) দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ।
ভুক্তভোগী সাজমিন আক্তার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা শফিক মিয়া শহরের ওয়েজখালী এলাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো রাত ১১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত তিনটার দিকে হঠাৎ ঘরের বাইরে আগুন দেখতে পান। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশী বিলাল হোসেন, সফিকুল ইসলাম ও সাহেল আহমদসহ কয়েকজন ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ততক্ষণে ঘরের টিনের ছাউনি ও কিছু মালামাল পুড়ে যায়।
ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ডিজেল বা পেট্রোলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সাজমিন আক্তার বলেন, ‘গ্রামের মাদকসেবীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমি ‘সুনামগঞ্জ হেল্পলাইন’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়েছিলাম। এরপর থেকেই আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে একই গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান। সে এলাকায় মাদকসেবী ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। আমাদের ধারণা, মেহেদীই আমাদের ঘরে আগুন দিয়েছে।’
সাজমিনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, ‘গতকাল বিকেলে মেহেদী দেশীয় অস্ত্র হাতে গ্রামের এপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছে। মানুষকে গালিগালাজ করেছে। আমরা ভয়ে কিছু বলিনি। কয়েক দিন আগে মাদকবিরোধী প্রতিবাদ করায় শহরে একজন খুন হয়েছে।’
অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতেও গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে তার বোন ফারজানা জান্নাত বলেন, ‘আমাদের ওদের (সাজমিনদের) সঙ্গে গতকাল ঝামেলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমার ভাই তাদের ঘরে আগুন লাগায়নি। আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।’
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, ‘আমি সুনামগঞ্জের বাইরে আছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এটি পূর্ববিরোধ থেকে ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আব্দুল হালিম/এআরএস

