Logo

সারাদেশ

খামারিদের চাওয়া—ভারত থেকে গরু না আসুক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশি গরুতে ভরপুর খামার

কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত ১ লাখ ৩৫ হাজার

Icon

লিটন হোসাইন জিহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৫, ১৮:০৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশি গরুতে ভরপুর খামার

ছবি : বাংলাদেশের খবর

আসন্ন ঈদু-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির পশু প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। জেলার ১৪ হাজার ৭৯২টি খামারে এ বছর লালন-পালন করা হচ্ছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৫টি পশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৯৯ হাজার ৫৬৭টি, মহিষ ১২ হাজার ১৬৬টি এবং ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে রয়েছে ২৩ হাজার ৯০২টি।

জেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি খামার সদর উপজেলায়—৪ হাজার ১৭১টি। এরপর রয়েছে কসবা উপজেলায় ২ হাজার ৪৪টি, নবীনগরে ১ হাজার ৭০৩টি, নাসিরনগরে ১ হাজার ৬১৮টি, বাঞ্ছারামপুরে ১ হাজার ২৮১টি, সরাইলে ১ হাজার ২৭৫টি, আশুগঞ্জে ১ হাজার ২৭টি এবং বিজয়নগরে ৮৯৬টি।

সরেজমিনে দেখা যায়, খামারিরা এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সদর উপজেলার বিলকেন্দুয়াই গ্রামের নবাব এগ্রো ফার্মে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ৭০ থেকে ৮৫টি গরু রয়েছে। খামারটির মালিক আশরাফুল ইসলাম শাকিল বলেন, তাঁর খামারে ফাইটার, খাসা, শাহিওয়ালসহ বিভিন্ন জাতের ষাঁড়, বলদ ও মহিষ আছে। এসব পশুর দাম দুই লাখ থেকে ছয় লাখ টাকার মধ্যে। তিনি বলেন, ‘দেশে গরুর সরবরাহ পর্যাপ্ত। ভারত থেকে যদি গরু না আসে, তবে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবে।’

পৌর শহরের ছয়বাড়িয়া এলাকার প্রিন্স এগ্রো ডেইরি খামারে রয়েছে প্রায় ২০০টি গরু। খামারটির মালিক ফুরকান উদ্দিন বলেন, ‘এখানে দুটি বড় বলদের লাইভ ওয়েট ৮৩০ থেকে ১ হাজার ৪০০ কেজি পর্যন্ত। দাম দেড় লাখ থেকে শুরু করে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খামারে বিনিয়োগ করেছি। এখন সরকারের উচিত ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখা, যাতে দেশীয় খামারিরা বাঁচে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘এই বছর জেলায় কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি হবে না। জেলার চাহিদা মিটিয়েও অতিরিক্ত পশু থাকবে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্টেরয়েড ও হরমোনমুক্ত পশু নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

জেলার খামারিদের প্রধান দাবি, কোরবানির মৌসুমে ভারতসহ অন্য কোনো দেশ থেকে যেন গরু আমদানি করা না হয়। এতে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং কোরবানির পশু ব্যবসায় লাভবান হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ঈদুল আজহা

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন