সোনাদিয়ায় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত
বন বিভাগকে ফেরত ৯ হাজার একর ভূমি
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৫, ১৫:৪৭
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) দেওয়া কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের ৯ হাজার ৪৬৭ একর খাসজমির বরাদ্দ বাতিল করেছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাসজমি-২ শাখার উপসচিব মাসুদ কামাল স্বাক্ষরিত ৫ মে’র এক স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্মারকে বলা হয়, ২০১৬ সালের বন্দোবস্ত কেস নম্বর ৫/২০১৬-এর মাধ্যমে বেজাকে দেওয়া মহেশখালীর সোনাদিয়া, প্রস্তাবিত সমুদ্র বিলাস ও চর মকবুল মৌজার মোট ৯ হাজার ৪৬৭ একর খাসজমির বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইকোপার্ক তৈরির নামে বেজাকে জমি দেওয়ার পর দ্বীপে গাছ কাটা, চিংড়িঘের নির্মাণসহ পরিবেশবিধ্বংসী নানা কার্যক্রম চালানো হয়। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পুনরুদ্ধারমূলক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে।
এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, খালের মুখ ও শাখা-প্রশাখার বাঁধ অপসারণ, বালিয়াড়ি পুনরুদ্ধার, সৈকত সংরক্ষণ এবং কেওড়া, কেয়া, নিশিন্দা, নারকেল ও তালগাছসহ ম্যানগ্রোভ ও নন-ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ।
এর আগে ২০১৭ সালে মাত্র ১ হাজার ১ টাকা সেলামিতে বেজাকে এই জমি ইকো-ট্যুরিজম পার্ক গড়ার জন্য বরাদ্দ দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারতের মাহিন্দ্র ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে।
তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০১৯ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করলে জমি বরাদ্দ স্থগিত হয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৭ মার্চ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বীপের ৯ হাজার ৪৬৭ একর বনভূমিকে রক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এর ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেজার পরিচালক শাহীন আখতার সুমি জানান, জেলা প্রশাসককে জমি হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এআরএস

