ছবি : বাংলাদেশের খবর
সবুজ পাহাড়ে সাদা মেঘের ভেলা। শরতের রূপ যেন ফিরে এসেছে ভরা বর্ষার পূর্বে। পাহাড়ের ভাজে ভাজে কখনও রোদ কখনও বৃষ্টি। প্রকৃতি যেন ফিরে পেয়েছে আপন সৌন্দর্যে। বদলে গেছে পাহাড়ের প্রকৃতি। পাহাড়ের রূপ দেখে মুগ্ধ হবে যে কেউ। ভরা বর্ষার পূর্বেই সবুজ পাহাড় যেন ফিরে পেয়েছে তার আপন রূপ।
প্রকৃতির সজীবতা অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি। গ্রীষ্মের বাহারী ফুলে ছেয়ে গেছে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির পথপ্রান্তর। কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া, সোনালু, জারুল, লাল সোনাইল সহ নাম জানা অজানা কত বাহারী ফুল ফুটেছে রাস্তার দু'পাশে। সড়কের দুই পাশ, বসত বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সবখানে রক্ত রাঙ্গা কৃষ্ণচূড়া, হলুদ আভার সোনালু ও জারুল যেন পুড়ে পুড়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। পাহাড়ের এই রূপ দেখতে অনেকে পাহাড়ে বেড়াতে আসছে। পর্যটক কি স্থানীয় সবারই নজর কাড়ছে নয়নাভিরাম এমন দৃশ্য।
পর্যটক জেসমিন আক্তার বলেন, গত দু’বছর আগে আমরা খাগড়াছড়ি এসেছিলাম। কিন্তু এরকম সৌন্দর্য আগে চোখে পড়েনি। যে দিকে চোখ যাচ্ছে দেখছি ফুল আর ফুল। ছেয়ে গেছে রাস্তার দু’পাশ। ফুলের সুভাষে চারপাশ মৌ মৌ করছে। মনে হচ্ছে স্বপ্নের দেশে চলে আসলাম।
স্থানীয় চাইলাপ্রু মারমা ও প্রতিভা ত্রিপুরা বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে রাস্তার দু’পাশ যেভাবে ফুলে ছেয়ে গেছে তা খাগড়াছড়ির আরও সৌন্দর্য বাড়িয়ে। আর এখানকার যেসব পার্ক, হোটেল-মোটেল এবং রেস্টুরেন্ট আছে সেগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ধরনের ফুলের নার্সারিতে সাজিয়েছে। আমরা স্থানীয়দের পাশাপাশি আগত পর্যটকেরাও দেখে মুগ্ধ। আমরা আশা করছি এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় সেদিকে যদি পরিবেশ কর্মীরা নজর দেয় তাহলে আমরা খাগড়াছড়ি রূপের নগরী পরিণত হবে।’
পরিবেশ প্রেমী সাইথোয়াই মারমা বলেন, ‘প্রকৃতির এই পরিবর্তে জীব বৈচিত্র্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। প্রকৃতি এই সজীবতা ধরে রাখতে প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য রাস্তার আরও বেশ কিছু জায়গায় ফুল আর ঔষধি গাছ লাগালে সৌন্দর্য দেখাবে।’
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পৌর প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে সবুজায়নের লক্ষে ল্যাডস্কিপ নীতিমালার আওতায় ভবিষ্যতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেব। এছাড়া পৌর এলাকার প্রধান সড়ক ও নিউজিল্যান্ড এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করব।’
খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকতা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, ‘ভরা বর্ষার পূর্বে প্রকৃতি আপন সৌন্দর্যে প্রত্যাবর্তন করেছে। এমন সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমরা বন বিভাগ কাজ করছি। প্রাকৃতিক বনায়ন ধরে রাখতে বিভিন্ন ইতি মধ্যে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। পাশাপাশি স্থানীয়দের প্রকৃতি রক্ষায় পাড়াবন সৃষ্টি করার জন্য উৎসাহ প্রধান করছি। সবাই মিলে কাজ করলে আমি মনে করি প্রকৃতি ও পরিবেশ দু’টো সংরক্ষণ করা সম্ভব।’
ছোটন বিশ্বাস/এমআই

