ঈদের বাজারে দেশি গরু, প্রস্তুত রূপগঞ্জের খামারিরা
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৫, ১২:৪৩
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার খামারিরা। কোরবানির ঈদে লাখ লাখ পশু কোরবানি করা হবে—এ উপলক্ষে খামারগুলোতে চলছে গরু লালন-পালনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুর পরিচর্যা, খাদ্য জোগান, চিকিৎসা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। খামারিরা দাবি করছেন, কোনো ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ট্যাবলেট ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে।
রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২০০টি খামারে পালিত হচ্ছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার গরু। খামারগুলোতে গরু রাখা হয়েছে পাকা ঘরে, প্রতিটি ঘরে রয়েছে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও ফ্যানের ব্যবস্থা। খাবারের তালিকায় রয়েছে খড়, খৈল, ভুসি, কাঁচা ঘাসসহ বিভিন্ন প্রকার দেশি খাদ্য। সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে এসব গরু বড় হচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে।
খামারিরা জানান, দেশি পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে খরচ কিছুটা বেশি হলেও পশু ঝুঁকিমুক্ত থাকে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়।
খামারি সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো ইনজেকশন বা কৃত্রিম ওষুধ ব্যবহার করছি না। শুধু দেশি খাবার ও পরিচর্যায় গরু বড় করছি। ক্রেতারাও এখন প্রাকৃতিকভাবে লালিত গরুর প্রতি আগ্রহী।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস বলেন, এ বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে রূপগঞ্জে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ গরু প্রস্তুত হয়েছে। খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নির্ভেজাল পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করছেন। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রাজধানীসহ আশপাশের উপজেলায়ও গরু সরবরাহ সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিয়মিত খামারিদের খোঁজখবর রাখছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ট্যাবলেট ব্যবহার না করার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
- এন বি আকাশ/এটিআর

