অরক্ষিত কক্সবাজার রেলস্টেশন, চুরি হচ্ছে কোটি টাকার সরঞ্জাম
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৫, ১০:২২
চট্রগ্রামের দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও অরক্ষিত রয়েছে কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন। স্টেশন ভবন ও ক্যারেজ ডিপো এলাকায় নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। ফলে চুরি হয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার সরঞ্জামাদি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্টেশনের ওয়াশপিটে তিনটি ট্রেন ধোয়ার প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক তার, ৯০০টি ওয়াটারিং বাল্ব এবং ৩০০টি বৈদ্যুতিক বাল্ব। কিন্তু গত কয়েক মাসে সবকিছুই উধাও। যে কারণে অন্ধকারে ট্রেনের আন্ডার গিয়ার চেকিং ও ধোয়া-মোছার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের ক্যারেজ ডিপোর উপ-সহকারি প্রকৌশলী (রেলযান পরীক্ষক) আব্দুল জলিল বলেন, গত ৩-৪ মাস অনেক চুরির ঘটনা ঘটছে। মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া প্রায় ৬ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। যে কারণে সন্ধ্যার পর ট্রেন ওয়াশ এবং আন্ডার গিয়ার চেকিং করতে সমস্যা হচ্ছে।
এতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। জলিল বলেন, নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং জনবল চাওয়া হয়েছে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি আইকনিক স্টেশনটি। এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আর রক্ষণাবেক্ষণ মেয়াদকাল শেষ হবে সেপ্টেম্বরে।
রেলস্টেশন ইনচার্জ মো. গোলাম রব্বানী বলেন, স্টেশনটি এখনো রেলওয়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। রেল চলাচলের স্বার্থে আমরা কিছু অংশ ব্যবহার করছি মাত্র। অফিসিয়ালি হস্তান্তর হলে পুরো স্টেশন চালু করা যাবে।
জানা গেছে, চীনের চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (CCECC) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড যৌথভাবে নির্মাণ করেছে এই স্টেশন ভবন। তবে রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে।
স্থানীয়রা বলছেন, দেশের সবচেয়ে আধুনিক স্টেশন হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটি সুরক্ষার অভাবে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত হস্তান্তর ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
- এটিআর

