শ্রীপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ১০
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৫, ১৮:২৯
ছবি : বাংলাদেশের খবর
গাজীপুরের শ্রীপুরে ভারতীয় কর্মকর্তাদের অপসারণসহ ১০ দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আরএকে সিরামিক কারখানার শ্রমিকরা। আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শ্রমিক ও এক শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
রোববার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এতে উভয়মুখী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল ৮টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে কিছুক্ষণ পরই শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের আবারও সংঘর্ষ বেধে যায়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ করে। এতে রফিকুল ইসলামসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় লাল মিয়া নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার শিশু সন্তান ইসরাফিল ভয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার পরিবারের আরও চারজন আহত হয় বলে জানা গেছে।
শ্রমিকদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইনক্রিমেন্টের টাকা একসঙ্গে পরিশোধ, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, আন্দোলনকালীন উপস্থিতি গণনা, নতুন ও পুরাতন শ্রমিকদের জন্য সমন্বিত বেতন কাঠামো, সিভিল কর্মীদের ন্যূনতম হাজিরা ৫০০ টাকা নির্ধারণ, মাসিক হাজিরা বোনাস ১৫০০ টাকা, আন্দোলনের পর বহিষ্কার না করা, পুরাতন সব সুবিধা পুনরায় চালু এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের অপসারণ।
আরএকে সিরামিকের মানবসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আয়ুব আলী বলেন, ‘শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
শিল্প পুলিশের গাজীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার আল মামুন সিকদার বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
- এমআই

