ডাকসু নির্বাচন : ছাত্রদলের আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদের ইশতেহার ঘোষণা

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১৫:০৯
আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১৮:০৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খাঁন।
ইশতেহারে আবাসন সংকট নিরসন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও কারিকুলামের আধুনিকায়ন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পরিবহন সুবিধার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটালাইজেশন, সাইবার সুরক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো নানা প্রতিশ্রুতি এতে স্থান পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারের মূল দফাগুলো হলো :
১. শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়ন : শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, আনন্দময় ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা; গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি বন্ধ; নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ; র্যাগিং ও মাদক নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থী সুরক্ষা সেল ও ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন চালু।
২. নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি : প্রতিটি হলে স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন, নারী চিকিৎসক নিশ্চিতকরণ, সান্ধ্য আইন শিথিল, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল গঠন।
৩. স্বাস্থ্যসেবা : বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবীমা, মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য র্যাম্প ও সহায়ক ব্যবস্থা।
৪. শিক্ষার মানোন্নয়ন : কারিকুলাম আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ট্রান্সফার, লাইব্রেরি ডিজিটালাইজেশন, ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, ফ্রিল্যান্সিং ও বিদেশি ভাষা কোর্স চালু।
৫. পরিবহন ব্যবস্থা : ব্যাটারিচালিত শাটল সার্ভিস, সকল রুটে যাতায়াত বাড়ানো, জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, ক্যাম্পাস জোনভিত্তিক যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ হাঁটা ও সাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা।
৬. প্রশাসনিক সেবা ও কর্মসংস্থান : ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট প্রাপ্তি ডিজিটালাইজেশন, শিক্ষা ঋণ ও বৃত্তি, অন-ক্যাম্পাস পার্ট-টাইম চাকরি, স্টার্টআপ ক্যাপিটাল ও উদ্যোক্তা সহায়তা।
৭. ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম : আন্তঃহল ও আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতা, জিমনেসিয়াম আধুনিকায়ন, নাটক, শর্টফিল্ম, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অরুণোদয় উৎসব” চালু।
৮. ডিজিটাল সুবিধা ও সাইবার সুরক্ষা : একাডেমিক ইমেইলের মেয়াদ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ক্লাউড স্টোরেজ, ডিজিটাল স্কিল ট্রেনিং, সাইবার সিকিউরিটি সেল গঠন, আইনি সহায়তা প্যানেল তৈরি।
৯. পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন : হল ও ভবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা ও অবাধে থাকা প্রাণীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা।
১০. আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা : ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে অর্থায়ন।
সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের নেতারা বলেন, ‘আমাদের ইশতেহার মূলত শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ, গণতান্ত্রিক চর্চা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিকীকরণকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীবান্ধব ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেবে।’
এমএমআই/এএ/এমএমআর/এএইচকে