মণিরামপুরে ভুয়া প্রতিবন্ধী ভাতা কেলেঙ্কারি, ২১৩ জনের কার্ড স্থগিত

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৩:৪২
-68b2ab7e82170.jpg)
ছবি : বাংলাদেশের খবর
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নে সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তিদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড তৈরি করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাচাই-বাছাইয়ে ওই ইউনিয়নের ২১৩ জনকে প্রাথমিকভাবে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি অনেকের নামও তদন্তে আসতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদে এই যাচাই-বাছাই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ১ হাজার ১০ জন নিবন্ধিত ভাতাভোগীর মধ্যে ৫৬৯ জন হাজির হন। এর মধ্যে ৩৫৬ জনের কার্ড বৈধ হিসেবে চূড়ান্ত হয়। প্রাথমিকভাবে ২১৩ জনকে ভুয়া বলে চিহ্নিত করে তাদের কার্ড স্থগিত রাখা হয়েছে। আর ৪৪১ জন যাচাই-বাছাই বোর্ডে উপস্থিত হননি। স্থানীয়দের দাবি, যারা হাজির হননি, তারাও ভুয়া প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কার্ডে অনিয়ম ধরা পড়েছে। ২১৩ জনকে পেন্ডিং রাখা হয়েছে। তারা যদি বৈধ প্রমাণপত্র জমা দেন, পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে। সমাজসেবা কর্মীদের বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত সরদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, ফিল্ড সুপারভাইজার ফারুক হোসেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর জহিরুল ইসলামসহ ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও ইউপি সদস্যরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে নেহালপুর ইউনিয়নে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত ৮১ জনের অর্ধেকই প্রকৃত প্রতিবন্ধী নন। তারা দাবি করেছেন, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় ইউপি সদস্য (হেরা মেম্বর), সাবেক সমাজসেবা কর্মী কানুন বালা ও অফিসের মাঠকর্মী রেহেনা বেগম সুস্থ ব্যক্তিদের নামে ভাতার কার্ড তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
জাহাঙ্গীর আলম/এআরএস