
ছবি : বাংলাদেশের খবর
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশীরাম মুনসীর বাজার এলাকায় তিস্তা নদীর ধারে আশ্রয় নিয়েছেন শফিকুল মিয়া। একসময় তিনি ছিলেন স্বচ্ছল কৃষক। গরু-ছাগলে ভরা ছিল গোয়ালঘর। ছিল গোলাভরা ধান আর প্রচুর জমি-জমা। অভাব-অনটনের কোনো ছায়া ছিল না তার পরিবারে।
নিজেদের জমির ধান, শাক-সবজি আর গরুর দুধ দিয়ে ভাত খেয়ে অভ্যস্ত ছিল পরিবারটি। তিস্তার তাজা মাছও ছিল তাদের দৈনন্দিন খাবারের অংশ। কিন্তু তিস্তা ভাঙনে কেড়ে নিয়েছে শফিকুল মিয়ার সবকিছু। আজ তিনি বাস্তুহারা, আশ্রয় নিয়েছেন নদীর ধারে।
অভাবের তাড়নায় পুরোনো কৃষিজীবন ছেড়ে বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এখন তিনি শ্রম বিক্রি করেন, আর জীবিকার বড় অংশ আসে তিস্তার চর থেকে সংগৃহীত ঘাস বিক্রি করে। প্রতিদিন নৌকায় ঘাস কেটে নিয়ে আসেন কালীগঞ্জ বাজারে। কৃষক, গৃহস্থ থেকে শুরু করে খামারিরা সেসব ঘাস কিনে নেন।
কালীগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় প্রতিদিন দুপুর থেকে শুরু হয়ে চলে ঘাসের হাট। শফিকুল সেখান থেকে আয় করেন দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। প্রতি আঁটি ঘাস বিক্রি হয় ১০ টাকায়। সেই টাকাতেই কেনেন চাল, ডাল, লবণ, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
তিস্তার ভাঙনে নিঃস্ব শফিকুলের জীবন কেবল টিকে থাকার লড়াই। প্রতিদিনের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর অল্প আয়ে চলছে তার সংসার। স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তবে হয়তো আবারো দাঁড়াতে পারবে এই অসহায় পরিবারটি।
রাহেবুল ইসলাম টিটুল/এএ