কুড়িগ্রামে ২৮ বছর আগে হারানো সন্তানকে ফিরে পেলেন মা-বাবা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ২০:৩৪

ছবি : বাংলাদেশের খবর
সংসারে অভাব-অনটনের কারণে প্রতিবেশীর সঙ্গে ৯ বছর বয়সে চট্টগ্রামে কাজের সন্ধানে গিয়ে হারিয়ে যায় সাইফুল। এরপর একে একে কেটে যায় ২৮টি বছর। সৃষ্টিকর্তার কাছে কত দোয়া করেছেন বাবা-মা, অঝোরে কেঁদে পার করেছেন কত দিন-রাত। অবশেষে তাদের ডাক শুনেছেন সৃষ্টিকর্তা। মৃত্যুর আগে প্রাণের সন্তানকে ফিরে পেয়েছেন বাবা-মা।
সাইফুলের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নেফরা গ্রামে। তিনি আব্দুল লতিফ ও আমেনা বেগমের সন্তান। পরিবারে পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে চতুর্থ সাইফুল।
এর আগে ১৯৯৭ সালে পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক নারীর সঙ্গে চট্টগ্রামে কাজের উদ্দেশ্যে পাঠানো সাইফুল পথিমধ্যে একটি স্টেশনে থামলে ট্রেন থেকে নেমে পড়ার কারণে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর তিনি চট্টগ্রামের সিতাকুণ্ডু উপজেলার ভাটিয়ারি রেল স্টেশনের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে ২৮ বছর কাটান।
গত সপ্তাহে নেফরা গ্রামের এক বাসিন্দার সঙ্গে হঠাৎ কথোপকথনের মাধ্যমে পরিবারের খোঁজ মিলে তার। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সাইফুলের বড় ভাই মাহফুজ রহমান গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভাটিয়ারি থেকে সাইফুলকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবেগাপ্লুত বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠেন।
বড় ভাই মাহফুজ রহমান বলেন, ‘ঠিকানা অনুযায়ী গিয়ে ভাইকে দেখে চিনতে কোনো কষ্ট হয়নি। সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়।’
অশ্রুসিক্ত বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুশি হয়েছি, আল্লাহর কাছে অনেক কেঁদেছি।’
মা আমেনা বেগম বলেন, ‘সংসারে অভাব ও মঙ্গা খাবারের কারণে ছেলে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে ২৮ বছর পরে তাকে ফিরে পেয়েছি।’
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময়ে খাদ্য ও পুষ্টির অভাবে সাইফুল ও তার বাবা কিছুটা জ্ঞান-বুদ্ধি কমে গেছে। পরিচয়বিহীন ২৮ বছর কাটার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র জোটেনি। উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা জানান, পরিবারটির পাশে থেকে দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সার্বিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ফজলুল ফরাজি/এএ