৮ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা বিএনপির সম্মেলন, শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ
আবু সালেহ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৫২
ছবি : বাংলাদেশের খবর
দীর্ঘ আট বছর পর আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সম্মেলন। নতুন নেতৃত্ব বাছাই ও সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর (রোববার) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসছে এই বহুল প্রতীক্ষিত আয়োজন।
সর্বশেষ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৭ সালে। নানা জটিলতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সময়ের কারণে এতদিন আয়োজন সম্ভব হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে ফিরে আসছে জেলা বিএনপির এই মহাসম্মেলন।
সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই মাঠজুড়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল স্টেজ। শ্রমিকরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। স্টেজের পাশাপাশি শহরের প্রধান সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানানো হয়েছে অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার। শহরজুড়ে নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
-TKG_Festive atmosphere at BNP conference (1)-68bd637311033.jpg)
দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের ডাক পেয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। স্থানীয় পর্যায়ের অনেকেই মনে করছেন, এই আয়োজন শুধু নেতৃত্ব বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, ‘সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে অন্যান্য পদে যারা মনোনয়ন নিয়েছিলেন, তারা শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়িয়েছেন। আমরা চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক।’
জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. পয়গাম আলী জানান, নেতৃত্ব বাছাই হোক ভোটের মাধ্যমে কিংবা নির্বাচিত প্রক্রিয়ায়, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মেলন সফল করতে চাই।
-TKG_Festive atmosphere at BNP conference-68bd638fa0fe9.jpg)
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমীন সরকার বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছি। এটি হবে সফল ও ঐক্যবদ্ধ একটি সম্মেলন।’
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যেই উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোতে গতিশীলতা এসেছে। এবার জেলার সর্বোচ্চ ফোরামের এই সম্মেলনকে ঘিরে পুরো জেলায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য।
২০১৭ সালের পর এত বড় রাজনৈতিক সম্মেলন ঠাকুরগাঁওয়ে হয়নি। স্থানীয়দের মতে, এই আয়োজন শুধু রাজনৈতিক রীতি নয়, বরং জেলার রাজনীতিতে নতুন ধারা সঞ্চার করবে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি সুদৃঢ় করতে সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর এই সম্মেলন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে দল নতুন কর্মসূচি ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা পাবে।
-TKG_Festive atmosphere at BNP conference-68bd63af3b0a8.jpg)
সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে হাজারো নেতাকর্মী যোগ দেবেন। অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই সম্মেলন তাদের জন্য এক প্রকার উৎসবের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন তরুণ কর্মী বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরে এমন আয়োজনের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে।’
দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সম্মেলন। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পাশাপাশি আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন নেতাকর্মীরা।
এআরএস

