বরিশালে মাস্টাররোল শ্রমিকদের বেতন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন
জেআই জুয়েল, বরিশাল
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:৫৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বরিশাল সড়ক ও জনপথ শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উদ্যোগে মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন সমস্যার সমাধান, ২৭ মামলার নীতিমালা চূড়ান্তকরণ এবং ওই নীতিমালায় সাতটি মামলা অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সড়ক ভবনের জোন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান, শ্রমিকদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির সরদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল বাশার পান্নুসহ অন্যান্য নেতারাও কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। পান্নু বলেন, ‘২০২৫ সালের নীতিমালা সংশোধন করে মাস্টাররোল কর্মচারীদের মাসিক বেতনের আওতায় আনতে হবে। ২৭ মামলার নীতিমালায় সাত মামলার অন্তর্ভুক্তি না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে ২২ দিনের হাজিরার পরিবর্তে ৩০ দিনের হাজিরা দিতে হবে এবং সকল শ্রমিকের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
শ্রমিক ইউনিয়নের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে :
১. ২৭ মামলার অন্তর্ভুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করা।
২. সকল মাস্টাররোল শ্রমিক-কর্মচারীকে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে অবিলম্বে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা।
৩. তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সকল নিয়মিত শ্রমিক-কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।
৪. কর্মরত মাস্টাররোল শ্রমিকদের দৈনিক সাময়িক শ্রমিক নীতিমালা ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।
৬. ট্রেড ইউনিয়ন সমন্বয়ে কাঠামো পুনর্গঠন করে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা।
৭. হাজিরা ২২ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন করা।
এদিকে দাবির বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান বলেন, ‘তাদের দাবি যথার্থ। তারা মাস্টাররোলে ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে চাকরি করছেন এবং পরিবার চালাচ্ছেন। তিন মাস ২১ দিন ধরে তাদের বেতন বন্ধ রয়েছে। আমি আশা করি খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।’
জেআই জুয়েল/এআরএস

