পাকা সড়কের স্বপ্ন অধরা : ৫৪ বছরেও পিছিয়ে পাঁচ গ্রাম
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:১০
ছবি : বাংলাদেশের খবর
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও পাকা সড়কের ছোঁয়া পায়নি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম। টিটা, টিটা পানাইল, শিকারপুর, ইকড়াইল ও কুমুরতিয়া—এই পাঁচ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এখনও কাঁচা ও ভাঙাচোরা ইটের রাস্তায় চলাচল করতে বাধ্য। বর্ষায় কাদা, শুকনো মৌসুমে ধুলোবালিতে পথ চলা দুর্ভোগে পরিণত হয়।
জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থায় পিছিয়ে থাকলেও এই পাঁচ গ্রামে রয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—১০টি জামে মসজিদ, একটি কারিগরি কলেজ, দু’টি উচ্চ বিদ্যালয়, চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি সাব পোস্ট অফিস, দুটি বড় বাজার এবং ১০টির বেশি মাছ ও গবাদিপশুর খামার।
এই এলাকার কৃষকরা উৎপাদিত সবজি, দুধ ও টিটা বাঁওড়ের মাছ বিক্রি করে পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলার বাজারগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করেন। কিন্তু সড়ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সময়মতো পণ্য বাজারে নিতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
টিটা গ্রামের কৃষক নাছির মিয়া বলেন, ‘ভালো রাস্তা না থাকায় মাথায় কিংবা বাইসাইকেলে করে কাদা-ধুলো পেরিয়ে কাশিয়ানী বাজারে পণ্য নিয়ে যেতে হয়। শত শত কৃষক রোজ এই কষ্ট সহ্য করেন। সরকার যেন দ্রুত পাকা সড়ক নির্মাণ করে আমাদের এই দুর্ভোগ দূর করে।’
ইকড়াইল গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী ইমদাদুল হক বলেন, ‘ছোটবেলায় খেয়া নৌকায় মধুমতি পার হয়ে স্কুলে যেতাম। এখন ইটের ভাঙা পথে আমাদের সন্তানদের হেঁটে যেতে হয়। তারা অন্য এলাকা থেকে ফিরে এসে আফসোস করে—আমাদের এলাকায় কেন একটিও পাকা রাস্তা নেই।’
বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী বিউটি খানম ও রবিউল ইসলাম জানান, ‘ভাঙাচোরা রাস্তায় অটোভ্যানও চলতে পারে না। তাই প্রতিদিন অনেকটা পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হয়।’
টিটা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান শিকদার বলেন, ‘একসময় এই পাঁচ গ্রামের চারপাশ ছিল মধুমতি নদী বেষ্টিত। নদী ভাঙন থেকে ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়ার পর এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে ২০২০ সালে ড্রামের ভাসমান সেতু নির্মাণ করে। এখন সময় এসেছে স্থায়ী সেতু ও পাকা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার।’
টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু সাইদ মিয়া বলেন, ‘বহুবার রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কাজ হয়নি। আশ্বাসেই আটকে আছে সব।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রাহাত ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানি। প্রবেশপথে ভাসমান সেতু ও দুর্বল কাঁচা রাস্তা থাকায় ভারি যন্ত্রপাতি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্ষা শেষে টেন্ডারের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কার্পেটিং কাজ শুরু করা হবে।’
স্থায়ী সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর আগে প্রস্তাব পাঠানো হলেও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। আবারও প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘এলাকাবাসীর দাবি যুক্তিযুক্ত। এলজিইডি জানিয়েছে, বর্তমানে রাস্তা করার পরিবেশ অনুকূল নয়। বর্ষা শেষে সরঞ্জাম পৌঁছানোর ব্যবস্থা হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
মিয়া রাকিবুল/এআরএস

