সারাদেশে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত
হেলমেট ব্যবহার ও ট্রাফিক আইন মানার ওপর জোর
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:২৭
ছবি : বাংলাদেশের খবর
দেশের বিভিন্ন জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৫। ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’—এই প্রতিপাদ্যে বুধবার (২২ অক্টোবর) জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিবসের মূল বার্তা ছিল—সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সকলের সচেতনতা ও আইন মেনে চলার আহ্বান। বাংলাদেশের খবরের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তারিত।
ফরিদপুর : ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন, ফরিদপুর ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহিন চৌধুরী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ সাইফুল্লাহ সরদার।
বক্তারা বলেন, মহাসড়কে স্পিড ব্রেকারের সাইন না থাকা, কিশোরদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, থ্রি হুইলার চলাচল, রাস্তার পাশে অবৈধ হাটবাজার স্থাপন ও জনসচেতনতার অভাব—এসবই দুর্ঘটনার মূল কারণ। তারা ট্রাফিক আইন মানা, থ্রি হুইলার নিষিদ্ধকরণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
রাজশাহী : রাজশাহীতে ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু সুফিয়ান।
উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেলের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি এবং সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।
বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার ও নিরাপদ গতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিআরটিএ আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান (যুগ্মসচিব) এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারিয়া তানজিন।
বক্তারা বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব নয়। চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সবাইকে আইন মানতে হবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে ৫০ জন হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকের মাঝে হেলমেট বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।
জয়পুরহাট : ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’ প্রতিপাদ্যে জয়পুরহাটে র্যালি ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। সকাল ১০টায় রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে র্যালি বের হয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক (যুগ্মসচিব) আফরোজা আকতার চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জেসমিন নাহার, বিআরটিসির পরিদর্শক রামকৃষ্ণ পোদ্দার, প্রকৌশলী মেহদী খান, ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর জামিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হয় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস।
র্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে পৌরশহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
পরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সারা দেশে নবমবারের মতো পালিত হচ্ছে দিবসটি। অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
নিসচা ধামরাই উপজেলা কমিটির সভাপতি নাহিদ মিয়া বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেই ২০১৭ সাল থেকে সরকারিভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। ইউএনও মো. মামনুন আহমেদ অনীক বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার, যা বাস্তবায়নে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির আহ্বায়ক আলমগীর জোয়াদ্দার।
বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, খানা-খন্দমুক্ত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও পথচারীদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
তারা আরও বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক মানে শুধু দুর্ঘটনামুক্ত পথ নয়, এটি সচেতন নাগরিকত্বের প্রতীক।” শেষে উপস্থিত সবাই অঙ্গীকার করেন— ‘সড়ক হবে নিরাপদ, জীবন হবে সুন্দর।’
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) : ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’ প্রতিপাদ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
দিনের শুরুতে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম কামরুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মেনে চললে সড়কে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমাবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সকালে সরাইল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি বের হয়ে সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক ও যাত্রী উভয়ের সচেতনতা জরুরি। মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, গতিসীমা মেনে চলা এবং যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা অপরিহার্য। তারা আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক গড়তে পুলিশ, পরিবহন শ্রমিক, মালিক ও যাত্রীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এআরএস

