Logo

সারাদেশ

আমির হামজাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ মা-বাবা

Icon

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৪:০৬

আমির হামজাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ মা-বাবা

একমাত্র ছেলে আমির হামজাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ মা-বাবা। ছবি : বাংলাদেশের খবর

চারপাশে প্রতিবেশি আর স্বজনদের ভিড়। বিলাপ-সান্ত্বনা কোনো কিছুই ছুঁয়ে যাচ্ছে না শোকাহত মা মরিয়ম বেগমকে। তিনি একেবারে স্তব্ধ। চোখে পানি নেই। বসতঘরের সামনে মাটিতে বসে শুধু ফ্যালফ্যাল চোখে এদিক-ওদিক তাকান। কিছুক্ষণ পরপর মূর্ছা যাচ্ছিলেন। সবাই সান্ত্বনা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করলেও কিছুতেই মনকে বুঝাতে পারছেন না তার একমাত্র ছেলে ‘আমির হামজা’ আর নেই।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার শুকুরহাটা গ্রামের একটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদ্রাসার পাশের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হয় সায়েমউদ্দিন বিশ্বাস ও মরিয়ম বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ।

কৃষিকাজ করা বাবা সায়েমউদ্দিন বিশ্বাস তিনটি মেয়ের পর পাওয়া একমাত্র ছেলেকে বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। তাই তিন বছর আগে তাকে চান্দড়া তা’লিমুল কুরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু মাত্র ৫০ টাকার তুচ্ছ বিরোধে সেই স্বপ্ন এক নির্মম আঘাতে গুঁড়িয়ে গেছে।

নিহত আমির হামজার বাবা সায়েমউদ্দিন বিশ্বাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার তিনটি মেয়ের পর একটাই ছেলে আমার ‘আমির হামজা’। পরম যত্নে কোলে-পিঠে মানুষ করলাম। মাসুম বাচ্চাকে এমন নৃশংসভাবে কেন হত্যা করল? আমার আলেম বানানোর স্বপ্নটা তছনছ হয়ে গেল।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে মা মরিয়ম বেগমের সাথে তার শেষ দেখা হয়েছিল। সেদিন বাড়িতে এসেছিল সে। তবে সামনে পরীক্ষার জন্য পড়ালেখার চাপ থাকায় ওইদিন সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় ফিরে গেছেন ছেলে। শনিবার (১৮ আক্টোবর) বিকালে মাদ্রাসার ফোন থেকে তার সঙ্গেই হয়েছিল শেষ কথা। সন্তানহারা মায়ের একটাই আর্তনাদ— ‘আমার ছেলেকে যারা এমন করে মারল, তাদের কি বিচার হবে না?’

আলফাডাঙ্গা থানা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে আমির হামজা মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা তার বস্তাবন্দি লাশ ডোবার পানিতে ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। বস্তার ভেতর ইটও ভরা ছিল লাশ ডুবিয়ে রাখার জন্য।

দ্রুত তদন্তে পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকারীকে শনাক্ত করে। গ্রেপ্তারকৃত কিশোর ফরহাদ রেজা (১৬) নিহতের সহপাঠী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে। নিহত আমির হামজা তার কাছে ৫০ টাকা পাওনা ছিল। ঘটনার দিন পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তাকে গালিগালাজ করায় ফরহাদ প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়। সে কৌশলে হামজাকে মাদ্রাসার পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায় সে আমির হামজার গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এরপর অপরাধ ঢাকতে নিজের বাড়ি থেকে বস্তা ও ইট এনে মরদেহটি ডোবার পানিতে ফেলে দেয়। ফরহাদ একাই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। কাঁথা ও সাইকেলের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরটি হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজালাল আলম বলেন, ‘নিহতের বাবা সায়েমউদ্দিন বিশ্বাস বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত কিশোরকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

মিয়া রাকিবুল/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

নিহত

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন