বিএনপির কমিটিতে আ.লীগের পদধারীরা, ক্ষোভে ফুঁসছেন ত্যাগীরা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:১৯
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ১০১ সদস্য বিশিষ্ট নবগঠিত বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কারণ, বিএনপির এই দুই নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা, যারা এখনও দলীয় পদে দায়িত্বে রয়েছেন।
এতে ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করছেন উপজেলার বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী নেতারা, যাদেরকে পদবঞ্চিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আসাদুজ্জামান (আসাদ মাস্টার) বর্তমানে আওয়ামী লীগের সক্রিয় পদে থাকলেও বিএনপির নতুন কমিটিতে ১১ নম্বরে সহসভাপতি হিসেবে রাখা হয়েছে। তিনি ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে টগরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
একইভাবে, আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল ওহাব পান্নুকে রাখা হয়েছে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে ৫ নম্বরে সহসভাপতি পদে।
এছাড়া, উপজেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (মাসুদ মাস্টার) পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির পদ। কমিটির তালিকায় ৪ নম্বরে তার নাম রয়েছে।
আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, বিএনপির কমিটিতে ২০ নম্বরে সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে যিনি নামিত হয়েছেন, তিনি হলেন মনিরুজ্জামান মনির। তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুর রহমানের হয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
এদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহার, ছাত্র-জনতা হত্যার একাধিক অভিযোগে বর্তমানে কারাগারে থাকা সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া মিন্টুর শ্যালক নুরুল ইসলাম লিটন, যিনি অতীতে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাকেও বিএনপির কমিটিতে ৯৮ নম্বরে সদস্য করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত তিন মামলার আসামি লিটনের ছোট ভাই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারিসুর রহমান সোহানও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মো. জাকার মেম্বারকেও বিএনপির কমিটিতে সহসমবায় বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির তালিকায় ৭১ নম্বরে তার নাম রয়েছে।
গোপালপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ওহিদ শিকদার মেম্বারকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির কমিটিতে তার নাম ২৩ নম্বরে রয়েছে।
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি কামরুজ্জামান কদরকে প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই কমিটিতে অসংখ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদাররেছ আলী ইছা ও সদস্যসচিব এ. কে. কিবরিয়া স্বপন এই দুই কমিটির অনুমোদন দেন।
এই ঘটনায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপিতে প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দলের দীর্ঘদিনের কর্মীরা বলছেন, ‘যারা সারা জীবন আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীকের হয়ে ভোট দিয়েছে, তারা আজ বিএনপির নেতা। অথচ যারা বিগত দিনে ত্যাগ ও নির্যাতন সহ্য করেছে, তাদের কমিটিতে কোনো স্থান হয়নি।’
- এমআই

