বরিশালে ৭ দফা দাবিতে সওজ কর্মচারীদের স্মারকলিপি প্রদান
বরিশাল ব্যুরো প্রধান
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ২১:৪০
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বরিশালে সাত দফা দাবিতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের মাস্টাররোল কর্মচারীরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘কর্মচারীরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন, আমি জেলা প্রশাসকের পক্ষে তা গ্রহণ করেছি।’
বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে স্মারকলিপিতে জানানো হয়, দীর্ঘ ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে মাস্টাররোল ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন–ভাতা, চাকরির স্থায়ীকরণ, পেনশন সুবিধা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি প্রণীত ‘সাময়িক শ্রমিক নীতিমালা–২০২৫’ শ্রমিকস্বার্থবিরোধী বিধান অন্তর্ভুক্ত করায় কর্মচারীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নতুন নীতিমালায় একজন শ্রমিককে মাসে ২২ দিনের বেশি হাজিরা দিতে নিষেধ করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে মাস্টাররোল কর্মচারীদের জীবন–জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

সংগঠনটি সাত দফা দাবি উপস্থাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে—
১. ২৭ মামলায় অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করা।
২. তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা।
৩. বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে মাস্টাররোল কর্মচারীদের রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত করা।
৪. মাসিক বেতন নির্ধারণ ও ২০২৫ সালের নীতিমালা বাতিল।
৫. কর্মচারীদের পদ সুনিশ্চিত করে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন।
৬. উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মচারীদের ডাটাবেইজ তৈরি করে রাজস্বখাতে স্থানান্তর করা।
৭. ভেন্ডারের মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া বন্ধ করা।
বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি খান মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি–দাওয়া বিবেচনায় নিয়ে টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আমরা আশা করি, উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল বাসার পান্নু ও দপ্তর সম্পাদক মো. আনিসুর রহমানও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে সওজ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘কর্মচারীরা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় আপাতত বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’
- জেআই জুয়েল/এমআই

