Logo

সারাদেশ

ফেনীতে এমডি-২ আনারস চাষে নতুন সাফল্য

Icon

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩০

ফেনীতে এমডি-২ আনারস চাষে নতুন সাফল্য

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফেনীর পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ফেনী হর্টিকালচার সেন্টারে এমডি-২ আনারস চাষে নতুন সম্ভাবনা ও সাফল্য মিলেছে।

জেলা হর্টিকালচার সেন্টার সূত্র জানায়, ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা এমডি-২ জাতের আনারসের পরীক্ষামূলক চাষ সফল হওয়ায় দেশের ফলজ খাত বৈচিত্র্যময় ও আরও লাভজনক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তথ্য মতে, এমডি-২ জাতটি জনপ্রিয় হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রচলিত জাতের তুলনায় এর চাষ পদ্ধতি সহজ, মুকুট ছোট হওয়ায় ভক্ষণযোগ্য অংশ বেশি থাকে। সাকারের আকার অনুযায়ী ১২ থেকে ১৬ মাসে ফলন পাওয়া যায় এবং সাকার উৎপাদনক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। বৃষ্টির পানি ছাড়া আলাদা সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলন প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ‘সুপার সুইট’ নামে পরিচিত এমডি-২ আনারসের মিষ্টতা ১৪ ব্রিক্স, ফলের শেলফ লাইফ প্রায় ৩০ দিন এবং স্বাদ, সুবাস ও পুষ্টিগুণের জন্য বিশ্ববাজারে এর চাহিদা অত্যধিক।

দেশের প্রচলিত আনারসের তুলনায় এমডি-২ জাতে ভিটামিন ‘সি’ থাকে তিন থেকে চার গুণ বেশি। এছাড়া অল্প পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘কে’, ফসফরাস, জিংক ও ক্যালসিয়ামও রয়েছে। এ জাতের আনারস হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন। আনারসে থাকা ব্রোমেলিন হজমে সহায়তা করে, প্রদাহবিরোধী উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং রক্ত তরলীকরণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।

বিশ্ববাজারে ‘গোল্ডেন সুইট’ বা ‘এক্সট্রা সুইট’ নামে পরিচিত এমডি-২ আনারসের মিষ্টতা ও রসালো স্বাদের কারণে এটি স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যেও বিশেষ জনপ্রিয়। কম ক্যালোরির জন্যও এর চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের কৃষিতে এই সফলতা অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণসহ রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। প্রিমিয়াম মানের আনারসের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়তে থাকায় এমডি-২ চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে।

তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গবেষণা, কৃষক প্রশিক্ষণ, ফলের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কৃষিবিদরা।

জেলা হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, মানসম্মত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করলে কৃষকরা এ জাতের আনারস থেকে যথেষ্ট লাভবান হতে পারবেন। তিনি বলেন, “সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করে এমডি-২ আনারসের বাণিজ্যিক চাষকে উৎসাহিত করতে হবে। কৃষকদের মানসম্মত চারা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।”

ফেনী হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক নয়ন মনি সূত্রধর জানান, ২০২৩ সাল থেকে কেন্দ্রটিতে এমডি-২ আনারসের পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ চলছে। বর্তমানে সেন্টারে প্রায় পাঁচ হাজার এমডি-২ আনারসের চারা মজুদ রয়েছে। ‘এ জাতের আনারস অন্য আনারসের চেয়ে সুস্বাদু ও মিষ্টি। প্রতিটির গড় ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি,’ বলেন তিনি।

এম. এমরান পাটোয়ারী/এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন