Logo

সারাদেশ

পাবনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও পশু হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ

Icon

পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

পাবনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও পশু হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবাদানে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষত স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে এই অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ার মতো, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। 

ভুক্তভোগী জনসাধারণের অভিযোগ, অনেক কর্মকর্তা সরকারি দফতরকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছেন, আর অফিস যেন তাদের নিজস্ব কর্মক্ষেত্র। এই আচরণে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

স্থানীয় খামারি ও সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও উপজেলা পশু হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চরম অরাজকতা, দায়িত্বহীনতা ও সেবাহীনতা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক উপজেলায় ঝাড়ুদার, পিয়ন বা নিরাপত্তাকর্মীকে দিয়ে পশুচিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করানোর ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে, কর্মকর্তারা কৃষক ও খামারিদের বাড়িতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন, যার বিপরীতে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়।

সরকারি ওষুধ বরাদ্দ, গবাদিপশু বিতরণ, লোন অনুমোদন, অনুদান বরাদ্দ, প্রকল্প বাস্তবায়ন-এসব ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সচেতনতা ও উৎসাহমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় প্রায়ই কাগজে-কলমে বা লোক দেখানো কর্মসূচির মধ্যেই সীমিত থাকে। ফলে সরকারি বরাদ্দের একটি বড় অংশ অপচয় হয়, যা বাস্তবে সাধারণ খামারি বা কৃষকের কাজে আসে না।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ না পেলে তাদের গবাদিপশু মারা যাচ্ছে। সরকারি সেবা নিতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়, আবার ব্যক্তিগত সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করা হয়। কিছু কর্মকর্তা প্রভাবশালী মহলের ছায়া ব্যবহার করে নিজেদের অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার দিনব্যাপী প্রদর্শনী আয়োজন হওয়ার কথা থাকলেও ৩২টি স্টল নিয়ে মেলা চলেছে মাত্র দুই ঘণ্টা। দুপুর ১২টার দিকে অজ্ঞাত কারণে প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে এটিকে শুধু বিল-ভাউচার দেখানোর আয়োজন হিসেবে দেখছেন।

সেবা নিতে আসা পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের আরিফ হোসেন বলেন, “আমি সকাল ৮টায় একটি ভেড়া নিয়ে এসেছি। অফিসের লোক আমাকে বলেছে, প্রদর্শনী চলছে ওখানে নিয়ে যান, এরপর আবার হাসপাতালে নিয়ে যান। এই অগোছালো প্রক্রিয়ায় আমার অসুস্থ ভেড়াটি মারা যায়।”

উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আরজু বেগম নামের এক নারী অসুস্থ দুইটি ছাগলের সেবা নিতে এসে একটি মারা যায়। ওই নারী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও কর্মকর্তাদের ধিক্কার দিতে থাকেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার জহুরুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন এবং এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।

সচেতন মহল মনে করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এ খাতের দুর্নীতি আরও বাড়বে।

  • শফিক কামাল/এমআই
Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর