কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মচারীদের অনিয়ম, সেবা পাচ্ছে না রোগীরা
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫১
বাংলাদেশের খবর
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হয় এসব ক্লিনিকে। সরকার প্রতিটি ক্লিনিকে টাকা খরচ করলেও পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তদারকির অভাবে সিএইচসিপি, এইচএ, এফডব্লিউএ দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মনীতির বালাই না থাকায় সেবা নিতে আসা রোগীদের ফিরে যেতে হয় খালি হাতে। এছাড়া কোনো কোনো ক্লিনিকে হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় ঠিকমতো ক্লিনিকে আসেন না।
শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ছয়দিন কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা থাকার কথা। যেখানে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ছাড়াও পর্যায়ক্রমে তিন দিন করে স্বাস্থ্য সহকারী এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর চিকিৎসা দেওয়ার কথা। সেই হিসেবে প্রতিদিন ক্লিনিকে দুজনের সেবা প্রদান করার কথা; কিন্তু রোগীদের অভিযোগ- সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই বন্ধ থাকে ক্লিনিক। এসব ক্লিনিকের অধিকাংশই ইচ্ছামাফিক খোলা হয়। এতে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষজন এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভোলা চরফ্যাসন উপজেলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নের নজির মেম্বারবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক তার মধ্যে একটি। রয়েছে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এই ক্লিনিকে সিএইচসিপি হিসেবে আছেন নুসরাত জাহান, এইচএ পদে গনেশ চন্দ্র সুতার এবং এফডব্লিউএ পদে সুরাইয়া খাতুন। নিয়ম অনুযায়ী সিএইচসিপিকে সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লিনিকে অবস্থান করে রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা। প্রায় ৬ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এই ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল।
অভিযোগ রয়েছে নুসরাত জাহান ক্লিনিকে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না। অনেক রোগী সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ ফোন করলে তিনি কোনোভাবে এসে দ্রুত সেবা দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ। অথচ মা-শিশু ছাড়াও সাধারণ রোগের পাশাপাশি ক্যানসারের স্ক্রিনিং করার কথা এসব ক্লিনিক থেকে। রয়েছে রোগী রেফার করার পদ্ধতি। বিনামূল্যে দেওয়া হয় ২৭টি জরুরি ওষুধ।
স্থানীয় বাসিন্দা তবারক উল্যাহ বলেন, ‘আমার বুঝ হওয়ার পর থেকেই দেখি ক্লিনিকটা সপ্তাহে ২/১ দিন খোলে। রোগীরা ফোন দিলে নুসরাত আসে, ফোন না দিলে আসে না।’
একই এলাকার মোসলেউদ্দিন জানান, ‘নুসরাত জাহান মাঝে মাঝে আসে, তাও লোক না থাকলে ঘুরে চলে যায়। প্রতিদিন তাকে দেখা যায় না।’
নুরাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আমির হোসেন জানান, ‘নজির মেম্বারবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে আগে জ্বর, সর্দিকাশি কিংবা পেটের ব্যথার মতো সাধারণ রোগের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া যেত। এতে তাদের মতো কৃষক পরিবার অনেকটা স্বস্তিতে ছিল; কিন্তু গত জুলাই মাসের শেষদিকে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হলেও ক্লিনিকে গিয়ে কোনো ওষুধ পাননি। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে কিনেছেন।’
ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমাস হোসাইন বলেন, ‘চরের মানুষরা অশিক্ষিত। অনেকেই আবার কাজে ব্যস্ত থাকে, তাই এসব ক্লিনিকে সেবা নেওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে না। এছাড়াও এসব ক্লিনিক যারা চাকরি করেন, তারা অনেকেই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জড়িত। এখানে কী ওষুধ এলো, কী বিতরণ হলো- এগুলো দেখার কারও সাহস নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে নুসরাত জাহান বলেন, ‘আমি নিয়মিত আসি। তবে আমার বাচ্চার বয়স মাত্র তিন মাস, তাই আসতে একটু দেরি হয়। অন্যদিকে এইচএ ও এফডব্লিউএ যারা আছেন, তারাও নিয়মিত আসেন না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন কুমার বসাক বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এম ফাহিম/এনএ

