বাজারে শীতের সবজি ভরপুর, দামে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:০৮
নীলফামারীর স্থানীয় কাঁচা বাজারে শীতের সবজিতে ভরপুর হলেও দামে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। এ সময় বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় এসব সবজি। কিন্তু এ বছর বাজারে শীতকালীন সবজি প্রচুর আমদানি হলেও বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে তদারকি না থাকায় ইচ্ছেমতো চড়া দামে বিক্রি করছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। আবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও এখনও সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিক হবে সবজির দাম।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে জেলা শহরের কিচেন মার্কেট, উকিলের মোড়, সাহেব বাজার, কালিতলা বাজার, নতুন বাজার, ডালপট্টি বাজার এবং বাদিয়ার মোড়সহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে।
কিচেন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। লাউ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। এছাড়া কাঁচা পেঁপে ২০, গোল বেগুন আকার ভেদে প্রতিকেজি ৭০-৮০ টাকা টাকায়। দেশি শসা ৪০-৪৫ টাকা, করলা, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পটল, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এদিকে, গাজর ১২০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রকার ভেদে ৮০-১০০ টাকা, ধনেপাতা ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কিচেন মার্কেটের পাইকারি বাজারে বেগুন বিক্রি করতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার যখন ফসল বিক্রি করি তখন আড়তদাররা যে দাম বলবে তাতেই দিতে হয়। তারা একচেটিয়া ব্যবসা করে। সারা বছর রোদে পুড়ে উৎপাদন করে বাজারে এসে খুচরা ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের কাছে জিম্মি হতে হয়। আজকে ১ মণ গোল বেগুন ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলাম আর এই বেগুন খুচরা বাজারে বিক্রি হবে ৮০-৯০ টাকা। প্রতি কেজিতে আমার লোকসান হলো ৪৫ টাকা। এসব দেখা এবং বলার কেউ নেই।’
ওই মার্কেটে সবজি কিনতে আসা ফারাবি আকতার বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। আর কৃষক ও ভোক্তা বরাবরই ঠকছে। আমরা সীমিত আয়ের মানুষ বাজারে এসে বিপাকে পড়তে হয়।’
একই বাজারে ক্রেতা রুবেল মিয়া বলেন, ‘এখন শীতের সবজি বাজারে প্রচুর। তবুও চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে। বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। কিন্তু কাঁচাবাজারে তদারকি (মনিটারিং) না থাকায় সাধারণ ভোক্তারা প্রতিদিন ঠকছে।’
কিচেন মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘আজ পাইকারি বাজারে সবজির আমদানি কম হওয়ায় তুলনামূলক দাম একটু বেশি। তবে কিছুদিনের মধ্যে সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছি। এছাড়াও ঘাটতি তো আছেই ফলে একটু বেশী দামে বিক্রি করতে হয়।’
এদিকে লালশাক, কলমিশাক, পুঁইশাক, কুমড়োশাক, মুলাশাক, পালংশাক, ধনেপাতাসহ সব সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে।
অপরদিকে, বাজারে রুই ও কাতল আকারভেদে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, কৈ, তেলাপিয়া মাছ ১৮০-২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশি কৈ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, সরপুটি ১০০-১২০ টাকা, শিং মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা, টেংরা প্রতিকেজি ৭০০-৭৫০ টাকা, মোয়া মাছ ২৫০-৩০০ টাকা। শোল মাছ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে মাগুর ৩৫০-৪০০ টাকা, গোঁতা মাছ ১,১০০ থেকে ১,২৫০ টাকা, ১,৫০০-১,৫৫০ টাকা ও টাকি মাছ ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুকুর কিংবা খাল বিলের মাছের চেয়ে নদীর মাছের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি।
হামিদ পোলট্রি হাউজের মালিক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘পোল্ট্রির বাজার স্বাভাবিক রয়েছে, সোনালি খুচরা প্রতিকেজি ২৫০ টাকা, বয়লার ২৬০ টাকা, রিজেক্ট প্যারেন্ট ২৮০ টাকা, লাল লেয়ার ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।’

জেলা বিক্রয় ও বিপণন কর্মকর্তা এটিএম এরশাদ আলম খান জানান, ‘আমাদের কাছে খবর আছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে ভোক্তাদের কাছে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। আমরা দ্রুত এসব বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অসাধু ব্যবসায়িদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
তৈয়ব আলী সরকার/এনএ

