খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময়ে মোটরসাইকেল শোডাউন করে সমালোচিত বিএনপি নেতা
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:০৮
বাংলাদেশের খবর
যখন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ঠিক সেই সময়ে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিরুজ্জামান মনির এলাকায় জমকালো মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন।
দলীয় নেত্রীর এমন চরম সংকটাপন্ন মুহূর্তে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক শোডাউন করায় স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ দলের কেন্দ্রীয় মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই মনিরের এই কর্মকাণ্ডকে ‘চরম অসংবেদনশীল’ ও ‘ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করছেন।
জানা যায়, ফরিদপুর-১ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে মধুখালী থেকে এই শোডাউন শুরু হয়। পরে এটি বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। প্রায় কয়েক শত মোটরসাইকেল নিয়ে এই শোডাউনে অংশগ্রহণ করেন মনিরের সমর্থকরা। এ সময় তারা মনিরের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিলেও বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি বা সুস্থতা কামনায় কোনো জোরালো আওয়াজ শোনা যায়নি, যা দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে হতাশার জন্ম দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিদপুর জেলা বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নেত্রী এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এই সময়ে আমাদের সব শক্তি তার জন্য প্রার্থনা এবং তার সুচিকিৎসার দাবিতে নিয়োজিত থাকা উচিত। অথচ এই মুহূর্তে একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী নিজের শক্তির জানান দিতে এমন জমকালো শোডাউন করছেন, এটি দলের মূল ভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে বেমানান।’
স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী জানান, 'শোডাউনের বদলে এখন দলের পক্ষ থেকে নেত্রীর আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন ছিল। একজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর এই কর্মকাণ্ড দলের কর্মীদের মধ্যে ভুল বার্তা দিচ্ছে।'
আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে মনিরুজ্জামান মনির এই শোডাউন করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে দলীয় সর্বোচ্চ নেত্রীর এমন নাজুক পরিস্থিতিতে এককভাবে নিজের প্রচারণা চালানোর এই সিদ্ধান্ত দলের ভেতরেই তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এই মোটরসাইকেল শোডাউনের বিষয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিরুজ্জামান মনিরের নিকট মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান বিকেলে নেত্রীর জন্য একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান করবেন। এই প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে তার ছবি পাঠিয়ে দিবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।
ফরিদপুর-১ আসনে মনিরের এই শোডাউন বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা দলের উচ্চমহল পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে ফরিদপুর-১ আসনে দলটি প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
মিয়া রাকিবুল/এনএ

