Logo

সারাদেশ

কাল থেকে খুলছে সেন্টমার্টিন, রাত্রিযাপনে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩৬

কাল থেকে খুলছে সেন্টমার্টিন, রাত্রিযাপনে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। মনোমুগ্ধকর দ্বীপটির স্ফটিক-স্বচ্ছ নীল জলরাশি, জীবন্ত প্রবাল প্রাচীর, নারকেল গাছের সারি এবং সমুদ্রজীবনের বৈচিত্র্য পর্যটকদের সবসময় আকর্ষণ করে। তবে সেখানে ভ্রমণের আগে মানতে হবে সরকারের নির্ধারিত বিধি-নিষেধ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে সেখানে রাত্রিযাপনের সুযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামে পরিচিত এ দ্বীপটি তার শান্ত সৈকত ও ডুবোজগতের সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পর্যটকরা এখানে প্রকৃতির এ অনন্য সৃষ্টি উপভোগ করতে আসেন।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। পর্যটকদের জন্য থাকবে রাত্রিযাপনের সুযোগও। তবে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। মেনে চলতে হবে ১২টি কঠোর নির্দেশনা।

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সোমবার সকাল ৭টায় জাহাজ ছাড়বে। পরের দিন বেলা ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকরা টানা দুই মাস দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামের চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নিরাপত্তার কারণে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে জাহাজ সেন্টমার্টিনে যাবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, পর্যটক পারাপারের সময় জাহাজগুলো কঠোর নজরদারিতে থাকবে। দুই হাজারের বেশি পর্যটককে দ্বীপে যেতে দেওয়া হবে না। নুনিয়ারছড়া ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে। দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন। রাত্রিযাপন করা যাবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে। দ্বীপটি দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সেন্টমার্টিন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর