আলফাডাঙ্গায় জায়ান হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত খুনিদের বিচার দাবি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:২৮
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সাত বছর বয়সী শিশু জায়ান রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সমাজসেবামূলক সংস্থা কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও দৈনিক ঢাকা টাইমসের সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন। ছবি : বাংলাদেশের খবর
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সাত বছর বয়সী শিশু জায়ান রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সমাজসেবামূলক সংস্থা কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও দৈনিক ঢাকা টাইমসের সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা সদর বাজার চৌরাস্তায় এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান।
মানববন্ধনে আরিফুর রহমান দোলন বলেন, ‘আমরা শুধু এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েই থেমে থাকতে চাই না। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা এতে জড়িত, সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফল হবে—এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জায়ানের প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে এক কাতারে দাঁড়িয়ে সমাজের বিরুদ্ধে চলমান সব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও আমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকতে হবে।’
দোলন বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কোনো অশুভ চক্র যেন রাজনৈতিক বা অন্য কোনো স্বার্থে ফায়দা লুটতে না পারে, সেটাও আমাদের দায়িত্ব। আগামীর বাংলাদেশ যেন অন্যায় ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে, সেই সূচনা আজ এখান থেকেই করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে পারি, তাহলে অবশ্যই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
বক্তব্যের শেষে তিনি জায়ান হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে গ্রিসপ্রবাসী পলাশ মোল্যার সাত বছর বয়সী ছেলে জায়ান রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিনই নিহতের মা সিনথিয়া বেগম অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে ঝুলন্ত রশিটিকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ। অনুসন্ধানে পাশের টাবনী বাজারের একটি মুদি দোকান থেকে রশি কেনার তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যা মফিজ খানের দোকান থেকে রশি কিনেছিলেন, যা উদ্ধার হওয়া রশির সঙ্গে মিল রয়েছে। এই সূত্র ধরে ইউনুচ মোল্যাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
এমবি

