২ বছরেও চালু হয়নি থানচি বাস টার্মিনাল, ভোগান্তিতে যাত্রী ও পর্যটকরা
সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:০০
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলা সদর এলাকায় নির্মাণ শেষ হওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চালু হয়নি থানচি বাস টার্মিনাল। ফলে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও স্থায়ী যানজট স্থানীয়দের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন চালক, যাত্রী এবং পাহাড় দেখতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুই বছর আগে সমাপ্ত হয়েছে বাস টার্মিনাল নির্মাণকাজ। রঙ করা দেয়াল, বসানো আসবাবপত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মাণ শুরু হলেও ২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার পরও এখনো চালু হয়নি। এর ফলে টার্মিনালটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং ভবনসহ আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভবনের ভিতরে ময়লার স্তুপ এবং বখাটেদের আড্ডা হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, টার্মিনালটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ব্যবস্থাপনা ও জনবল নিয়োগ হয়নি। যার ফলে থানচি বাজার ও বাসস্টেশন এলাকায় গাড়ি যত্রতত্র পার্কিং করছে, জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

চালকরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট পার্কিং স্পট না থাকায় বাধ্য হয়ে সড়কের দুই পাশে গাড়ি রাখতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
যাত্রী ও স্থানীয়রা বলেন, অগোছালো পরিবহন ব্যবস্থার কারণে সময়মতো গাড়ি পাওয়া যায় না। শীত ও বর্ষা মৌসুমে অপেক্ষমান যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। তারা দ্রুত টার্মিনাল চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, ‘ভূমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে টার্মিনালটি এখনও চালু করা যায়নি। এই জটিলতা নিরসন হলে দ্রুত সময়ে টার্মিনালটি চালু করা হবে।’
উল্লেখ্য, ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে মেসার্স মিল্টন ট্রেডার্স ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি থানচি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করেছে।
এআরএস

