Logo

সারাদেশ

ফেনীতে পাঠ্য তালিকায় গাইড, এনসিটিবি’র বই উপেক্ষিত

Icon

এম. এমরান পাটোয়ারী

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:২৯

ফেনীতে পাঠ্য তালিকায় গাইড, এনসিটিবি’র বই উপেক্ষিত

ফেনীতে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-মাদরাসাগুলোতে কোটি কোটি টাকা ডোনেশন নেওয়া কোম্পানির গাইড বই পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলার প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-র বইগুলো পাঠ্য তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেছে।

অভিযোগ আছে, স্কুল-মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা বিভিন্ন গাইড কোম্পানির কাছ থেকে ম্যানেজ মানি বা ডোনেশন ও নানা উপঢৌকন নিয়ে সরকারীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত গাইড বই, নোট বই এবং সহায়ক বই পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের অভ্যন্তরীন, ষাম্মাসিক ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নও মূলত এসব গাইড বইয়ের আলোকে তৈরি করছে।

সচেতন অভিভাবকরা জানান, গাইড নির্ভর পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা ও লেখার দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার উচ্চমূল্যের গাইড বই কিনতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সোনাগাজী উপজেলার দুই অভিভাবক জানান, তাদের ছেলেদের জন্য ৬ষ্ঠ শ্রেণির একটি লেকচার গাইড কিনতে ১২০০ টাকা, আর অষ্টম শ্রেণির জন্য ১৫০০ টাকা খরচ করতে হয়েছে। গরিব পরিবারগুলোর পক্ষে এ অর্থের যোগান দেয়া অনেক কষ্টসাধ্য।

জেলার স্কুল-মাদরাসার শিক্ষকরা চাপ সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের এই বইগুলো কিনতে বাধ্য করছেন। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগে গুগল ও ইউটিউব থেকে আগাম প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) ফেনী জেলা সেক্রেটারি ও ফকির হাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর আহাদ চৌধুরী জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কোন অবস্থাতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে বোর্ড বই ব্যতিরেকে কোন গাইড বই কিংবা সহায়ক বই পাঠ্য করা যাবে না। এ বিষয়টি আমরা সমিতির পক্ষ হতে ঘোষণা দিয়েছি। কিন্তু শুনতে পাচ্ছি, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ডোনেশন নিয়ে গাইড বই কিংবা সহায়ক বই পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভূক্ত করেছেন এটা অন্যায়। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে ৫০ জন প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে মত বিনিময় সভার আয়োজনও করেছি।

এছাড়া সোনাগাজী উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা নুরুল আবছার ফারুকীও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাইড নির্ভর পদ্ধতি চালু থাকায় মাধ্যমিক ও দাখিল পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে উঠছে না।

ফেনী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফী উল্লাহ জানান, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পক্ষ হতে এতদ্বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিপত্র জারি করেছে সরকার। সেখানে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে যে, কোন আবস্থাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্য তালিকায় গাইড বই, নোট বই সংযুক্ত করা যাবেনা, কোন গাইড বুকের ব্যাপারে সাজেস্ট করা যাবেনা এবং গাইড বই থেকে পরীক্ষার জন্য কোন প্রশ্নও করা যাবেনা। যে-সকল প্রতিষ্ঠানে গাইড বই পাঠ্য তালিকার রয়েছে ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। 

আইএইচ/ 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর