Logo

সারাদেশ

কালীগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতিতে ভোগান্তিতে রোগীরা

Icon

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৩১

কালীগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতিতে ভোগান্তিতে রোগীরা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ভোরের শিফট শেষ করে অবসন্ন শরীর নিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পথে রওনা হন সিরাজগঞ্জের আব্দুল কাদের (৩২)। সঙ্গে ছিলেন ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ মা জরিনা বেগম এবং নির্ধারিত রক্তদানের ডোনার। লক্ষ্য একটাই—রক্ত দিয়ে মাকে সামলে বাসায় ফিরে কয়েক ঘণ্টা ঘুম, তারপর আবার রাতের ডিউটি।

কিন্তু সকাল আটটায় প্যাথলজি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা মেলে তালাবদ্ধ কক্ষ এবং অনুপস্থিত কর্মীর চিত্র।

জানা যায়, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা কর্মবিরতিতে রয়েছেন। হতবিহ্বল কাদেরকে মাকে নিয়েই ফিরে আসতে হয় অসমাপ্ত চিকিৎসা নিয়ে।

একই চিত্র ভোগ করেন জামালপুর ইউনিয়নের চলিশোর্ধ মামুন মিয়া। সকাল ৯টায় চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করতে এসে ফার্মেসির সামনে আটকে পড়েন তিনি। ব্যথার যন্ত্রণা নিয়েই লাইনে দাঁড়িয়ে কাটে সময়, কিন্তু সেবা মেলেনি।

হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ডিজিটাল এক্স-রে কক্ষে তালাবদ্ধ দরজা, অসন্তোষ ও ক্লান্তির ছাপ দেখা গেছে। এক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, কিন্তু আমাদের চিকিৎসা বন্ধ থাকবে কেন? সমস্যার বোঝা রোগীদের ঘাড়ে পড়ছে।’

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা জানিয়েছেন, পেশাগত মর্যাদা ও বেতন কাঠামোর ন্যায্য সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে কর্মসূচিতে নামতে হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়কারী মো. হাফিজুর রহমান জানান, রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা–১১টা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি, ৩ ডিসেম্বর সকাল ৮টা–দুপুর ১২টা অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ৪ ডিসেম্বর পূর্ণ কর্মদিবস শাটডাউন অনুষ্ঠিত হবে। জরুরি বিভাগ সচল থাকলেও অন্যান্য সেবা সীমিত রাখা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলে তারা স্বাভাবিক কাজে ফিরে যাবেন।

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, রাষ্ট্র কেন চলমান বৈষম্য নিয়ে সময়মতো উদ্যোগ নেয়নি। ন্যায্য অধিকার চাইছেন কর্মীরা, কিন্তু চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন দিনমজুর, শ্রমিক, নারী ও বৃদ্ধরা—যাদের বিকল্প চিকিৎসা নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ বলেন, ‘দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আন্দোলনের কারণে কিছু কার্যক্রম ব্যাহত হলেও জরুরি সেবা সচল রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান ছাড়া এই দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব নয়। তারা বলেন, কর্মীর ন্যায্য অধিকার বনাম রোগীর বেঁচে থাকার অধিকার—দুই দাবিই ন্যায্য। সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া মানুষকে হাসপাতালমুখী ভোগান্তি থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।

রফিক সরকার/এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

কর্মবিরতি জনদুর্ভোগ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর