গোপালগঞ্জের মাদ্রাসা শিক্ষার সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ
পলাশ সিকদার, গোপালগঞ্জ
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৯:২২
ছবি : বাংলাদেশের খবর
গোপালগঞ্জ জেলায় ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষার ভূমিকা অসামান্য। হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনের মান উন্নয়নে মাদ্রাসাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে এখানকার মাদ্রাসাগুলো অর্জন করেছে ব্যাপক সুনাম। তবে কাঠামোগত দুর্বলতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মতো কিছু মৌলিক সমস্যা এখনও শিক্ষার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
গোপালগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার রুহুল আমীন বাংলাদেশের খবরকে জানান, জেলার মোট ৪৫টি মাদ্রাসার মধ্যে ৪২টি এমপিওভুক্ত এবং ৩টি নন-এমপিওভুক্ত। এগুলোর মধ্যে তিনটি স্তর রয়েছে—এবতেদায়ী (প্রাথমিক), দাখিল (মাধ্যমিক) ও আলিম/ফাযিল/কামিল (কলেজ)। কিছু মাদ্রাসায় এবতেদায়ী শিক্ষক, মৌলভী, কারী, দাখিল সহকারী শিক্ষক ও আলিম/ফাযিল/কামিল প্রভাষকের পদ ঘাটতি রয়েছে, যা মানসম্মত শিক্ষাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, আধুনিক শ্রেণীকক্ষ ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সমস্যা প্রকট। তবে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এসব সংকট থাকা সত্ত্বেও কিছু মাদ্রাসা বহুবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
গোপালগঞ্জ মহিলা কামিল মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো: নজরুল ইসলাম আল-মারুফ বলেন, এই মাদ্রাসা গত বছর জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। নবম শ্রেণীর ছাত্রী ওয়াছিফা ত্যৈয়েবা শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন। এই মাদ্রাসা প্রতিবছর বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলে জেলার শীর্ষ স্থান অর্জন করে। এছাড়া এখানে টেকনিক্যাল শাখাও চালু রয়েছে।
অধ্যক্ষ জানান, মাদ্রাসায় একটি ছাত্রী হোস্টেল ও এবতেদায়ী শাখার নতুন ভবন জরুরি। এছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। ছাত্রী জান্নাতুল বলেন, আমাদের জন্য একটি কমন রুম এবং পুকুরে ঘাট প্রয়োজন।
সালেহিয়া কামিল আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মো. আব্দুল্লাহ জানান, ২০১৯ ও ২০২২ সালে তিনি ঢাকা বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রাকটিক্যাল শিক্ষায় গুরুত্ব দেন।
মুকসুদপুর উপজেলার বামন ডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসার জন্য একটি নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি। মাদ্রাসার রাস্তা সংস্কারেরও প্রয়োজন। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী মিউটেশন প্রক্রিয়া চলমান।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হাজী আব্দুল কাদের দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মো. শানু বিশ্বাস জানান, ২০১২ সাল থেকে দাখিল শাখা চালু হলেও সরকারি সহায়তা পাননি। মাদ্রাসায় একটিমাত্র টয়লেট আছে, যা ছাত্র ও শিক্ষক উভয়ই ব্যবহার করেন। নতুন টয়লেট নির্মাণ জরুরি।
অভিভাবকরা মনে করেন, মাদ্রাসাগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। আধুনিক চাহিদা পূরণের জন্য দ্রুত ল্যাবরেটরি, ডিজিটাল ক্লাসরুম এবং শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি। মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাবিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকট কাটিয়ে শিক্ষাকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করা সম্ভব।
গোপালগঞ্জে ২০২৪ সালে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন তিনজন—মো. আব্দুর সত্তার শেখ (এবতেদায়ী প্রধান, বাহাড়া মৌলভীবাজার আলিম মাদ্রাসা, মুকসুদপুর), মো: জাহিদুর রহমান (সহকারী শিক্ষক, পিংগলিয়া সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা, কাশিয়ানী) ও মাফরুহা জামান (প্রভাষক বাংলা বিভাগ, গোপালগঞ্জ মহিলা কামিল মডেল মাদ্রাসা)।
এআরএস

