Logo

সারাদেশ

ফরিদপুর-১

জুলাই গণহত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে খন্দকার নাসিরের বৈঠক, এলাকায় আতঙ্ক

Icon

ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৪৫

জুলাই গণহত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে খন্দকার নাসিরের বৈঠক, এলাকায় আতঙ্ক

ঢাকার বাড্ডা, মোহাম্মদপুরসহ একাধিক জায়গায় হওয়া জুলাই গণহত্যার দুই আসামি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। গত ২৭ ডিসেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালমারীর চতুল গ্রামে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন সাবেক চেয়ারম্যান ও বোয়ালমারী উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক লিটু শরীফের বাড়িতে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। ঢাকায় একাধিক জুলাই হত্যা মামলার আসামি হলেন এই লিটু।

সূত্র বলছে, ওইদিনের বৈঠকে আলফাডাঙ্গার পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফার ও শেখর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। সাইফার আলফাডাঙ্গা থানার বিস্ফোরক মামলার আসামী এবং কামাল আহমেদ ঢাকার বাড্ডা থানা ও মোহাম্মদপুর থানার দুইটি হত্যা মামলার আসামী।

এদিকে গতবছরের ১৮ জানুয়ারি আলফাডাঙ্গা থানায় আওয়ামী লীগের ১৭০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত তিন হাজার আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়। পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীরা আলফাডাঙ্গায় ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুর চালায়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় বিএনপির সমর্থক লাভলু সর্দার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামী আলফাডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার।

আলফাডাঙ্গার বিস্ফোরক মামলার বাদী লাভলু সর্দারকে বৈঠকের দিন (২৭ ডিসেম্বর) জোরপূর্বক সেখানে হাজির করে তার করা মামলা প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে সু-কৌশলে সেখান থেকে চলে আসেন তিনি। মামলার বাদী পরবর্তীতে এই ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমার করা মামলায় আওয়ামী দোসরদের নাম রয়েছে। এখন সেই মামলা প্রত্যাহারে খন্দকার নাসির আমাকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু মামলা হওয়ার পর এই হাসির কোটি কোটি টাকা মামলা বাণিজ্য করেছে। তিনি যদি এই টাকা ফেরত দেন তাহলে আমি মামলা তুলে নিবো। কারণ, যারা এই মামলায় জেল খেটেছে তারা তো আমাকে ছাড়বে না।’

তবে স্থানীয় পুলিশ বলছে, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বৈঠকের খবর জানতে পেরেছি। ফ্যাসিস্ট এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যবহৃত রয়েছে।

এই আসনের বিভিন্ন দলের এমপি প্রার্থীরা বলছেন, স্থানীয় দাগী আসামি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি নেতা খন্দকার নাসির নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। হত্যা মামলার আসামীদের নিয়ে একজন এমপি প্রার্থী ফরিদপুর-১ আসনের ভোটারদের কী বার্তা দিতে চান? এসব করে তো অপরাধীদের প্রশ্রয় ও উৎসাহিত করা হচ্ছে। অতিদ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা তাদের। 

ফরিদপুর-১ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (ন্যাশনাল ডেমেক্রেটিক ফ্রন্ট—এনডিএফ) প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর অভিযোগ করে বলেন, এ আসনে দল–মনোনীত একজন প্রার্থী সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। বিষয়গুলো রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা—তা বোঝা যাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রশাসন কতটা কঠোর অবস্থান নেয়, সেটির মাধ্যমে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী ও জেলা এনসিপির আহবায়ক হাসিবুর রহমান অপু আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা নাসির আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নাসির প্রকাশ্যেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানতে পেরে থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি আসামি গ্রেপ্তারে। ফ্যাসিস্ট এবং যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এমন কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’

আইএইচ/ 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

জুলাই অভ্যুত্থান বিএনপি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর