ভালুকায় বিদ্যালয়ে ভর্তি লটারি ঘিরে উত্তেজনা, ইউএনও অবরুদ্ধ
ভালুকা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৪
ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি লটারিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভর্তি সংখ্যা কমানোর ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ তিনজন সরকারি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি লটারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি চলতি শিক্ষাবর্ষে লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়টিতে ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্তের কথা জানান। এতে উপস্থিত অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
একপর্যায়ে উত্তেজিত অভিভাবকেরা ইউএনও মো. ফিরোজ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
অভিভাবকদের দাবি, প্রতিবছর এ বিদ্যালয়ে গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। অথচ এবার হঠাৎ করে ভর্তি সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা তা মেনে নিতে পারেননি। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং অবরুদ্ধ তিন কর্মকর্তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
অভিভাবকেরা জানান, বিকেল ৫টার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভর্তি বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত দেবেন, এ আশ্বাসের পর তারা কর্মকর্তাদের ছেড়ে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত সন্তোষজনক না হলে আগামী মঙ্গলবার পুনরায় বিদ্যালয়ে একত্রিত হয়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল আমিন মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি জরুরি কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। পরে এ বিষয়ে তিনি কথা বলবেন।
এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রোমান আহমেদ নকিব/এনএ

