টাঙ্গাইল-৮: সালাউদ্দিন রাসেলসহ ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, বাতিল ৬
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৩
টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিলকারী ১০ প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বৈধ এবং ছয়জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিনব্যাপী যাচাই বাছাই শেষে টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং অফিসার এই সিদ্ধান্ত জানান।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা পাওয়া প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হাসান রেজা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল।
অন্যদিকে যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সখীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবিব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী আওয়াল মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফজল মাহমুদুল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমান, আমজনতার দল মনোনীত প্রার্থী মো. আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান কামাল।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে টাঙ্গাইল-৮ আসনে রাজনৈতিক কৌতূহল অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এই আসনে এবারের নির্বাচনে দলটি অংশ নিচ্ছে না। ফলে ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের বাইরে থাকায় ভোটারদের আচরণ এবং প্রার্থীদের অবস্থান নতুন করে হিসাবের মধ্যে এসেছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে বিএনপি এই আসনে কোনো প্রার্থীকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করতে পারেনি। একইভাবে দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কোনো দলও এখানে জয় পায়নি। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার সেই ধারাবাহিকতা ভাঙার সুযোগ দেখছে বিএনপি। হারানো আসন পুনরুদ্ধারে দলটি মাঠপর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা শফিকুল ইসলাম খানও এ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ধর্মপ্রাণ ভোটারদের পাশাপাশি নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যেও তিনি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন বলে দাবি করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
বড় দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। নির্বাচনি বিশ্লেষকদের মতে, তিনি এবারের নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারেন। এর আগে এই আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি এমন জনসমর্থন দেখা যায়নি বলেও তারা মন্তব্য করেন।
গত প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি সখীপুর ও বাসাইল উপজেলায় বিভিন্ন স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এলাকায় একটি শক্ত সামাজিক ভিত্তি তৈরি করেছেন।
মুহাম্মদুল্লাহ/এনএ

