Logo

সারাদেশ

শীত বেশি যে জেলায়

Icon

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪

শীত বেশি যে জেলায়

যানজট আর কংক্রিটের শহর ছেড়ে যারা প্রকৃতির নির্মল শীতল পরশে শীত উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড় হতে পারে শীতকালীন ভ্রমণের আদর্শ গন্তব্য। ছবি : বাংলাদেশের খবর

যানজট আর কংক্রিটের শহর ছেড়ে যারা প্রকৃতির নির্মল শীতল পরশে শীত উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড় হতে পারে শীতকালীন ভ্রমণের আদর্শ গন্তব্য। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া— এ চারটি জিরোপয়েন্টের অন্যতম উত্তরের তেঁতুলিয়া।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তরের এ জেলা ‘শীতের জেলা’ হিসেবে পরিচিত। শহরের উষ্ণতার মাঝে হাঁসফাঁস করা মানুষরা শীতের প্রকৃত আমেজ উপভোগ করতে চাইলে ছুটে আসতে পারেন এ হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ে।

ভারত ও নেপালের সান্নিধ্যে অবস্থিত হওয়ায় পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা মেলে পৃথিবীর সুউচ্চ পর্বতমালা হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘার। অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকে মেঘমুক্ত আকাশে বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া স্পষ্ট দেখা যায়। এটি এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক ক্যানভাসের মতো।

ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দুটোই পঞ্চগড়ে তীব্র শীতের কারণ। এখানে গরমের চেয়ে শীতের আমেজ বেশি থাকে। আশ্বিনে শুরু হয় শীতের আগমন, কার্তিক থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। পৌষ-মাঘে শীত চরমে পৌঁছে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল, যা ৩০ বছরের সর্বনিম্ন। এ তীব্র শীতই পঞ্চগড়কে প্রকৃত ‘শীতের জেলা’ করে তুলেছে।

বিশেষ করে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা এ জেলার সন্নিকটে থাকায় প্রতিবেশি ভারতের ত্রি-সীমান্ত কোলে অবস্থানের কারণে পাহাড়ি বাতাসে শীতের অনুভূতি আরও প্রকট হয়। দেশের সবচেয়ে ঠান্ডা জেলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। শীতকালীন সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য এবং কুয়াশার চাদরে মোড়া প্রকৃতি এক অসাধারণ অনুভূতি দেয়।

এ জেলার উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়ায় অবস্থিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ চার-দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা। এখান থেকে ভারতের শিলিগুড়ি মাত্র ১০ কিলোমিটার, দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার, নেপাল ৬১ কিলোমিটার এবং এভারেস্ট শৃঙ্গ ৭৫ কিলোমিটার দূরে। কাঞ্চনজঙ্ঘার নৈকট্যের কারণে তুষার-পাহাড়ি হিমেল বাতাস এখানে শীতের তীব্রতা বাড়ায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা, যা ‘তুষারের পাঁচ রত্ন’ নামেও পরিচিত বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত। এর শ্বেতশুভ্র চূড়া প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটককে আকৃষ্ট করে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এখন শীত শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা ১২-১৪ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমে শীত বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে হিমালয় পর্বত কাছে থাকায় এ অঞ্চলে দেশের অন্যান্য জেলার আগে শীত নামে এবং শীতের তীব্রতাও বেশি থাকে।

শীত ঘিরে নবান্নের উৎসব শুরু হয় এ অঞ্চলের মানুষের ঘরে ঘরে। আবহমান গ্রামবাংলার চিরাচরিত দৃশ্য- মাঠের সোনালী ধান, কৃষাণীর ধান মাড়ানো, গ্রামে গ্রামে শীতের পিঠাপুলি ও অতিথি আপ্যায়নের সংস্কৃতি- সবকিছু মিলেমিশে একাকার। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির এ নিভৃত পরশে শীত উপভোগের জন্য পঞ্চগড় হতে পারে সেরা গন্তব্য।

তেঁতুলিয়ায় ঘুরতে আসা হিমেল, আসিফ ও তানজিনা বলেন, ‘আমরা শীতের সময় ঘুরতে ভালোবাসি। তাই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এসে দর্শনীয় স্থান দেখার পাশাপাশি শীতও দারুণ উপভোগ করছি। যারা ইট-কংক্রিটের শহরে বসবাস করেন, তারা শীতের সময় এখানে ঘুরে যেতে পারেন। আমাদের মতো তাদেরও ভালো লাগবে।’

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, পঞ্চগড় এখন শীতের মৌসুম। অগ্রায়ণ থেকে মাঘ পর্যন্ত এখানে তীব্র শীত হয়। জেলাটি হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়।

কয়েকদিন মৃদু শৈতপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পর এখন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড হচ্ছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতপ্রবণ জেলা হিসেবে পর্যটকদের জন্য শীত উপভোগের এক নতুন আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে উত্তরের এ হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়। যারা শীতকে প্রকৃতভাবে অনুভব করতে চান, কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে চান, তাদের জন্য পঞ্চগড় হাতছানি দিচ্ছে।

এসকে দোয়েল

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আবহাওয়া

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর