Logo

সারাদেশ

বিশ্ব ঐতিহ্য পাহাড়পুরে নববর্ষে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়

Icon

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫০

বিশ্ব ঐতিহ্য পাহাড়পুরে নববর্ষে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ ও টানা সরকারি ছুটিতে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

ছুটির সুযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো দর্শনার্থী এই প্রত্নস্থলে ভিড় জমিয়েছেন। দর্শনার্থীদের পদচারণা ও ক্যামেরার শাটারে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে আবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে পাহাড়পুর।

শুক্রবার ও শনিবারসহ ছুটির কয়েক দিন সকাল থেকেই বৌদ্ধবিহার এলাকায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কেউ বেড়াতে, কেউবা ইতিহাসের স্বাদ নিতে এসেছেন। প্রাচীন ইটের স্থাপনার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন অনেকে। কেউ আবার নীরবে ঘুরে দেখছেন শতাব্দীপ্রাচীন নিদর্শন।

পাল আমলের (অষ্টম–নবম শতক) এই প্রত্নস্থলটি দক্ষিণ এশিয়ার এক সময়ের প্রধান বৌদ্ধ শিক্ষা ও ধর্মচর্চার কেন্দ্র ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, পাল রাজা ধর্মপাল এই বিশাল বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন। কেন্দ্রীয় মন্দির, অসংখ্য কক্ষ, স্তূপ ও প্রাচীন শিল্পকর্ম তারই সাক্ষ্য বহন করে। ১৯৮৫ সালে এটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়।

উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম এই বৌদ্ধবিহার তার স্থাপত্য, সংরক্ষিত জাদুঘর ও মনোরম পরিবেশের জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। সাম্প্রতিক সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় এর সৌন্দর্য আরও বেড়েছে, ফলে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থী আরব আলী বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ে পাহাড়পুরের কথা পড়েছি। কিন্তু সামনে এসে দেখার অনুভূতি একেবারেই ভিন্ন।’

দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লেও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। এলাকায় টুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। বদলগাছী পাহাড়পুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দর্শনার্থী বৃদ্ধিতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও গতি পাচ্ছে। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টোডিয়ান অফিসার ফজলুল করিম আরজু বলেন, সংস্কারের পর পর্যটকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থান কেবল অতীতের স্মারক নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে টিকে আছে।

এম এ রাজ্জাক/এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর