Logo

সারাদেশ

ফয়জুল করিমের স্ত্রীর সম্পদ তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি, স্বর্ণ ১৮৭ ভরি

Icon

বরিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৩

ফয়জুল করিমের স্ত্রীর সম্পদ তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি, স্বর্ণ ১৮৭ ভরি

চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করিম। ছবি : বাংলাদেশের খবর

চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের দাখিল করা হলফনামায় আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ফয়জুল করিমের হলফনামায় আয়, সম্পদ ও পেশাগত ঘোষণায় একাধিক অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে।

নির্বাচনী কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফয়জুল করিমের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ তার নিজের অস্থাবর সম্পদের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।

হলফনামা অনুযায়ী, তার স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ মোট ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ। অন্যদিকে ফয়জুল করিম নিজের অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন মাত্র ৩৩ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। তবে স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য নেই।

স্ত্রীর পেশা উল্লেখ করা হয়েছে ‘গৃহিণী ও ব্যবসায়ী’, কিন্তু ব্যবসার ধরন বা প্রকৃতি উল্লেখ নেই। এছাড়া স্ত্রীর নামে পৃথক আয়কর নথি থাকলেও, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৬ লাখ টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এজন্য আয়কর দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের হলফনামায় ফয়জুল করিম তার স্ত্রীকে শুধু ‘গৃহিণী’ বলেছিলেন এবং সেখানে তার কোনো আয় বা সম্পদের তথ্য ছিল না। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এত বিপুল সম্পদ কিভাবে অর্জিত হলো, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি হলফনামায়। স্বর্ণালংকার উপহারে পাওয়া বলা হলেও উৎস ও সময়কাল উল্লেখ নেই।

জাতীয় নির্বাচনের হলফনামায় ফয়জুল করিমের হাতে নগদ অর্থ দেখানো হয়েছে ৩১ লাখ ১২ হাজার টাকা, অথচ ব্যাংকে জমা আছে মাত্র ১ হাজার ১৭৬ টাকা। তার স্ত্রীর কোনো ব্যাংক হিসাবের তথ্যও উল্লেখ নেই। এর আগে সিটি নির্বাচনে তিনি নগদ অর্থ দেখিয়েছিলেন প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। নগদ অর্থের এমন উচ্চ পরিমাণ ও ব্যাংক লেনদেনের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়া এবারের হলফনামায় তিনি একটি ২২ বোর রাইফেলকে আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা আগের সিটি নির্বাচনের হলফনামায় ছিল না। আয়ের উৎসেও পরিবর্তন দেখা গেছে। এবার তিনি শিক্ষকতা থেকে বছরে ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা ও মাহফিল থেকে ৪ লাখ টাকা আয়ের কথা বললেও, পূর্বে উল্লেখিত ব্যবসা থেকে আয়ের তথ্য বর্তমানে নেই। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বার্ষিক আয়ের পরিমাণও প্রাপ্য আয়ের তুলনায় কম দেখানো হয়েছে।

জমির মূল্য নির্ধারণেও পূর্ববর্তী হলফনামার সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে। আয়কর রিটার্নে ফয়জুল করিম নিজের আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং সম্পদ ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যার বিপরীতে আয়কর দেওয়া হয়েছে ৯৬ হাজার ৪৭৫ টাকা। সিটি নির্বাচনের সময় আয় ছিল সাড়ে ১১ লাখ টাকা এবং আয়কর দেওয়া হয়েছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘দুটি নির্বাচনের হলফনামা ও আয়কর নথি তুলনা করলে আয়, সম্পদ ও পেশাগত ঘোষণায় একাধিক অসামঞ্জস্য চোখে পড়ে। এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। বিশেষ করে নগদ অর্থের পরিমাণ, স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ও তার আয়ের উৎস নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।’

গাজী আরিফুর রহমান/এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

চরমোনাই পীর সংসদ নির্বাচন নির্বাচন কমিশন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর